অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।


খেলা‘ঘর’ বাঁধতে লেগেছি

অবসর বিশেষ সংখ্যা সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭

 

সম্পাদকীয়

বেশী দিন নয়, মাত্র এক দশক আগেই কিন্তু খেলা বলতে ভিডিও গেমস বোঝাতো না। বোঝাত মাঠে বা কোর্টে বা আখড়াতে রীতিমতো ‘মাথার ঘাম পায়ে ফেলে’ মেহনতি খেলা। দম ফুরলেই সে খেলা শেষ হত, ব্যাটারি ফুরলে নয়। সেই খেলার স্মৃতি আমাদের আজও উদ্বেল করে। আমাদের নায়করা যেমন ছিলেন, ভিভ, কপিল, সানি – মারাদোনা, সুব্রত, কৃশানু, পি টি ঊষা - তেমনই ছিলেন পাড়ার , নিতুদা, গোপালদা ও কবিতাদিরা।

সেই মন কেমন করা দিনগুলির কথা দিয়েই শুরু আমাদের বিশেষ সংখ্যা – ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’!! প্রথম লেখাতেই সৌম্যকান্তি জানা আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন অনতিদূর অতীতের সেই ফেলে আসা খেলার জগতে।

একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে। কিন্তু আমরা কি মানসিকভাবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পেরেছি? আধুনিক বিজ্ঞান খেলার অগ্রগতিতে সহায়ক, কিন্তু সমাজ কি সত্যি আধুনিক? বদলেছে কি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি? বিশেষ সংখ্যার দু’টি লেখাতে তারই মননশীল চর্চা, লিখেছেন শমীতা দাশ দাশগুপ্ত ও সৌমেন্দ্র সাহা।

এককালে তো বটেই, এখনো খেলা বলতে আমাদের কাছে প্রথমেই মনে আসে ফুটবল – ক্রিকেট। এ যেন ‘উত্তম – সুচিত্রা’ জুটির মতই রোমান্টিক। আবেশ কুমার দাস লিখেছেন সেই ঐতিহ্যময় স্পিন বোলিংএর কারুকার্য নিয়ে। অরিন্দম মুখোপাধ্যায় আশা করেছেন ২০১৮র বিশ্বকাপে এক মহানায়কের পুনরুত্থানের কথা – নাম তার লিওনেল মেসি। উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে আধুনিক যুগে অনিশ্চয়তায়, রোমাঞ্চে ক্রিকেট ফুটবলের তুলনাতে বেশ কিছুটা এগিয়ে।

বাংলা সাহিত্যে, সাংবাদিকতায়, ধারাভাষ্যের মাধ্যমেও আমাদের মনে স্থান রেখে গেছেন সাহিত্যিক মতি নন্দী, শঙ্করী প্রসাদ বসু, অজয় বসু, কমল ভট্টাচার্যরা। আর আছে আমাদের নিজস্ব ‘খেলাঘর’ – ইডেন উদ্যান। ঈশানী রায়চৌধুরী লিখেছেন সেই মানুষটিকে নিয়ে যিনি আমাদের পরিচয় করান ‘ক্রীড়া-সাহিত্য’নামের এক নতুন ধারার সঙ্গে। সঞ্জয় সেনগুপ্তের লেখায় ‘ইডেন উদ্যান’ নামক আমাদের ভালবাসার মাঠের প্রতি এক বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ফুটবল-ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলাগুলিতেও আমরা মনোনিবেশ করেছি। সুজন দাশগুপ্তের সরস কলমে পেয়েছি তাঁর ছাত্রজীবনের অন্য খেলার চমকপ্রদ গল্প, সাইক্লিং ও ম্যারাথন দৌড়। অনীশ মুখোপাধ্যায়ের আক্ষেপ, বিশ্বের দিকপাল টেনিস খেলোয়াড়েরা যখন ‘একাই একশো’, ভারতীয় টেনিস বড় বেশী ‘দ্বিবচনে’ বিশ্বাসী। গোরাচাঁদ চৌধুরী স্বপ্ন দেখাচ্ছেন- ছোট্ট, ছোট্ট পায়ে চলতে শুরু করে টেবিল টেনিসের চাঁদের পাহাড়ে চড়ার। অন্যতম সম্পাদক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য এক পা এগিয়ে – তিনি একেবারে আমাদের নিয়ে তুলেছেন ‘পাহাড়চূড়ায়’ – শুনিয়েছেন গৌরীশৃঙ্গ জয়ের হাসিকান্নার ইতিহাস। আরেক সম্পাদক ভাস্কর বসুর লেখাতে এক ঐতিহ্যশালী ক্রীড়া, মল্লযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে নব প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের সামনে তুলে আনার প্রচেষ্টা।

শেষ পর্যায়ে আমরা পেয়েছি পাঁচ-পাঁচটি ব্যক্তিগত গদ্য। আমাদের পাঠকরা লিখেছেন তাঁদের মনকাড়া খেলার স্মৃতির কথা। প্রখ্যাত লেখক সৌরভ মুখোপাধ্যায় প্রথমবার কলম ধরেছেন ‘অবসর’এর জন্য – তুলে এনেছেন ১৯৮৪র নেহরু গোল্ড কাপের রোমাঞ্চ। সৌরভ মজুমদার ও দেবশ্রী ভট্টাচার্য - টেনিস বিস্ময় স্টেফি গ্রাফ এঁদের দুজনের মনেই যে ‘রেখাচিত্র’ এঁকে দিয়েছেন তা আজও অক্ষত, অম্লান। পরের দুটি লেখা ক্রিকেট সংক্রান্ত - অনির্বাণ দত্ত ফিরে দেখেছেন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্তকে। আর্য্য ভট্টাচার্য্য কুর্নিশ করেছেন সেই রাজকীয় খেলোয়াড়টিকে – ব্যাটিং করার সময় যিনি ছিলেন ‘বিশ্বত্রাস’-সেই স্যার আইজাক আলেকজান্ডার ভিভিয়ান রিচার্ডসকে।

অনেক গা ঘামানো হয়ে গেল কিন্তু! শুনতে পাচ্ছেন তো পাঠক, ‘কিক-অফে’র সেই লম্বা বাঁশীটা – ‘না, না, আর বিলম্ব নয়’! চলুন সব্বাই – মাঠে নেমে পড়ি। চুটিয়ে খেলুন, বন্ধুদেরও ছাড় নেই!! আমরা ঠিক করেছি ভাল মন্দ যাই আসুক না কেন, ‘সত্যেরে ল(হ)ব সহজে’!

ভাস্কর বসু

প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্য

 

(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.