সমাজ ও সংস্কৃতি : “সাস লিপি”, যা দিয়ে পৃথিবীর সব ভাষা লেখা যায়

সমাজ ও সংস্কৃতি : “সাস লিপি”, যা দিয়ে পৃথিবীর সব ভাষা লেখা যায় - ইউনিফাইড স্ক্রিপ্ট বা সমন্বিত লিপি হচ্ছে এমন একটি লিপি যা দিয়ে পৃথিবীর সব ভাষা লেখা সম্ভব । সমন্বিত লিপি আবিষ্কার পৃথিবীর প্রখ্যাত ভাষাবিদদের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে শাসক কুবলাই খান একজন তিব্বতী লামাকে ঐ সময়ে তিব্বত ও তার আশে পাশের অঞ্চলে প্রচলিত ভাষাগুলি লেখার উপযোগী একটিমাত্র লিপি উদ্ভাবনের দায়িত্ব প্রদান করেন। এই লামা যে লিপি উদ্ভাবন করেন তার নামে পাগস্‌ পা ( লিঙ্ক: http://babelstone.blogspot.com)। বলাবাহুল্য, সঙ্গত: কারণেই এই লিপি জনপ্রিয় হয়নি। এর পর হাজার হাজার পণ্ডিত ব্যক্তি উন্নততর সমন্বিত লিপি আবিষ্কারের চেষ্টা করেন । …
অধ্যাপক বিজন বিহারী শর্মা

This entry was posted in Society and tagged . Bookmark the permalink.

4 Responses to সমাজ ও সংস্কৃতি : “সাস লিপি”, যা দিয়ে পৃথিবীর সব ভাষা লেখা যায়

  1. Krittibas says:

    Great theory, but no practical use.

  2. Mohsin says:

    Anari
    chinta bhabna.

  3. Bijon B. Sarma says:

    ভূমিকা :
    বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতি যাই বলি না কেন, এই সব কিছুর উন্নতির মূলে আছে, জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নততর সূত্র ও তথ্য । আর সেই সঙ্গে আছে এইগুলিকে কথার মাধ্যমে বর্ননা করা ও লিপির মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাষা এতই আলাদা যে বলা হয়, ‘এক দেশের বুলি, অন্য দেশের গালি’ । এক দেশের ভাষা অন্য ভাষার মানুষের কাছে মনে হয় পাখীর কিচির মিচির । আর নিজ দেশের ভাষা, তা অন্যদের কাছে তা যতই বিদ্ঘুটে লাগুক, নিজেদের মনে হয়, ‘প্রাণের ভাষা’ । প্রাণ গেলেও মানুষ নিজের ভাষা ছাড়তে চায় না । নিজেদের ভাষার মর্য্যাদা রক্ষার জন্য কোন কোন মানুষ এমনকি প্রাণ বিসর্জন দিতেও কুন্ঠিত হয় না । এই পৃথিবীতে মাতৃভাষার জন্য জীবন বিসর্জন দেবার যে একমাত্র উদাহরণটি আছে, আমাদের সৌভাগ্য, তা এই বাংলাদেশীদের সৃষ্টি ।

    বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার মানব সভ্যতাকে আজ এক অকলল্পনীয় উচ্চ স্তরে পৌঁছে দিয়েছে । কিন্তু এই উন্নতির ছোঁয়া যে সকল ক্ষেত্রে সমান ভাবে লাগে নি তা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার লিপি দেখলেই বোঝা যায় । একই বা প্রায় একই ধ্বনি উচ্চারন করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা একেবারে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের লিপি ব্যবহার । আর এই বিভিন্নতা যে কত বিচিত্র দেখলে যে কেউ অবাক হবে । নীচে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের একটি লাইন “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় কি ভাবে লেখা হয় তা দেখানো হয়েছে ।

    CHINESE (SIMPLIFIED):
    这是一个特殊的孟加拉,我爱你。

    CHINESE (TRADITIONAL):
    這是一個特殊的孟加拉,我愛你。

    ARABIC:
    .أحبك وأنا ،الخاصة البنغالية هي هذه

    KOREAN:
    이것은 특별한 벵골어, 난 널 사랑해.

    RUSSIAN:
    Это особый бенгали, я люблю тебя.

    TAMIL:
    இது ஒரு சிறப்பு பெங்காலி தான், நான்
    உன்னை நேசிக்கிறேன்.

    JAPANESE:
    これは特殊なベンガル語であり、
    私はあなたを愛して。

    SUS (UNIFIED SCRIPT)
    Amar sOnar baqla ami
    vOmay BalObasi

    BENGALI:
    আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি ।

    এর মধ্যে বাংলা লেখাটি দেখলেই যে কোন বাঙ্গালীর একেবারে আপন জিনিস বলে মনে হয় । অপর পক্ষে অন্য ভাষার লেখাগুলি দেখলেই তার মনে হবে, ‘কি বিদ্ঘুটে” । মজার ব্যপার হল, অন্য ভাষার লোকদের আবার বাংলা লেখাটি দেখলে এমনই বিদ্ঘুটে মনে হবে । সেই সঙ্গে তার নিজের ভাষার লিপিটিকে মনে হবে, ‘আহা, কি সুন্দর, কি চমৎকার’ ।

    নানা প্রতিকূলতা বা সমস্যার কারনে কোন কোন দেশ তাদের ভাষার লিপি বদল বা সহজ করেছে । এর ফলে তাদের ভাষা লেখা সহজ হয়েছে, কিন্তু কথ্য ভাষা একই রকম থেকেছে । তাহলে দেখা যাচ্ছে, ভাষার দূর্বলতা দূর করা জন্য বা অন্য কোন সুবিধা লাভের জন্য ভাষার লিপি পরিবর্তন করা নতুন কিছু নয় ।

    বাংলা ভাষার লিপি নিয়ে এখন আমরা এখন যে সব সমস্যার মধ্যে আছি তার মধ্যে আছে,

    (০১) টাইপ করার সমস্যা ঃ বাংলাভাষায় অক্ষরের সংখ্যা অত্যন্ত বেশী । মূল বর্ন ছাড়াও আছে স্বর ও ব্যঞ্জন চিহ্ণ এবং অসংখ্য সংযুক্ত বর্ন । মূল বর্ণ, বর্নচিহ্ন সংযুক্ত বর্ণ ও সংযুক্ত বর্ণ নিয়ে বাংলা বর্ণমালার মোট সংখ্যা তা বলা কষ্টকর । বর্ণগুলি জটীল এবং তাদের সংখ্যা বেশী হওয়ার কারনে তরুন প্রজন্ম কম্পিউটার ও মোবাইলে প্রধানতঃ ইংরেজী বর্ণমালা ব্যবহার করে থাকে। বাংলা বর্ণমালাকে আধুনিক করার নানা পন্থা গ্রহণ করা হলেও এই সমস্যার সমাধান এখনও হয় নি ।

    (০২) লেখার সমস্যাঃ বাংলা বর্নমালার অক্ষরগুলিতে সরল, বাঁকা ও কৌণিকরেখা, একবার সামনে আবার পেছনে রেখা টানার রীতি, বর্ণের বিভিন্নস্থানে বিন্দু দেয়া, সকল ক্ষেত্রে ব্যঞ্জন বর্ণের উচ্চারনের পর স্বরচিহ্ণ উচ্চারণ করা হলেও লেখার সময় কোন স্বরচিহ্ণ বর্ণের আগে, কোনটি পরে, কোনটি নীচে, কোনটি উপরে, আর কোনটি আগে এবং পরে দুই স্থানেই ব্যবহার করার মতন নিয়ম থাকার জন্য লেখায় নানান সমস্যার সৃষ্টি হয় ।

    (০৩) বানান ভুলের সমস্যা : বাংলাভাষায় কিছু প্রায়-সমোচ্চারিত বর্ণ আছে ও বর্ন চিহ্ন আছে যেগুলি শুনে লিখতে গেলেই সংশয় দেখা দেয় এবং বানান ভুল নামক মারাত্মক সমস্যার দেখা দেয় । এই বানান ভুলের কারনে অনেক ছাত্রছাত্রী এবং বিদেশীরা একে ভীতির চোখে দেখে । অনেক বিদেশী শুধুমাত্র জটীল লেখাএবং বানান ভূলের কারনে এই ভাষা শিখতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে ।

    (০৪) দ্রুত লেখা ও দুর্বোধ্যতার সমস্যা : উপরে বাংলা বর্ণগুলির জটিলতা সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে সে সব কারনে বাংলা দ্রুত লেখা সম্ভব হয় না । আবার লেখা দ্রুত লিখতেই গেলেই তা পেঁচিয়ে যায় এবং তার পাঠোদ্ধার কষ্টকর হয়ে পড়ে । এটি “হাতের লেখা খারাপ” হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত । ছাত্র হিসেবে ভালো হবার পরেও শুধুমাত্র হাতের লেখা খারাপ হবার কারনে অনেক ছাত্র পরীক্ষায় ভাল ফল লাভ করতে পারে না ।

    (০৫) প্রতিটি লিপি আলাদা ভাবে চেনা ও লেখা জনিত সমস্যা :ধরা যাক, একটি শিশু বাংলা বর্ণমালা বলতে শিখে গেছে । এরপর তাকে বর্ণগুলি লেখা শিখতে হবে । অনেক কষ্টে সে ‘ক’ লিখতে শিখল । এর পর তাকে নতুন করে ‘খ’ লেখা শিখতে হবে । এভাবে তাকে একে একে সকল বর্ন, সংযুক্তবর্ণ, বর্ণচিহ্ন ইত্যাদি শিখতে হবে । এর ফলে বর্ণমালা লেখা শিখতেই শিশুদের প্রায় এক বৎসর বা তার বেশী সময় সময় লেগে যায় ।

    বর্ণলিপির প্রতিটি বর্ণ আলাদা আলাদা ভাবে লেখা শেখার এই নিয়ম অবশ্য পৃথিবীর সকল ভাষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য । তার বদলে ধরা যাক, যদি বর্ণের সংখ্যা যথাসম্ভব কম হতো, আর এমন কোন নিয়ম থাকতো যে, একটি বর্ণ লেখা শেখার পর একটি নিয়ম অনুসরন করে শিশুরা নিজেরাই পরের বর্ণগুলি তৈরী করে নিতে পারে তাহলে এই এই সময়কাল অনেক কমে যেতো ।

    উদাহরণ স্বরূপ ধরা যাক, বাংলা বর্ণলিপিতে পর পর আছে, ব, ক, ধ, র ইত্যাদি । এক্ষেত্রে শিশুরা ‘ব’ শেখার পর তার সামনে, নীচে বা উপরে কোন চিহ্ন যোগ নিজেরাই পর পর সেগুলি তৈরী করে নিতে পারত । কিন্তু বাংলা কেন, পৃথিবীর কোন ভাষার ক্ষেত্রেই নিয়ম নেই । এর কারণ এই যে, পৃথিবীর সকল ভাষার লিপির উদ্ভবই অবৈজ্ঞানিক পন্থায় । এই পন্থাটি হচ্ছে, প্রাচীন কালে কোন ধ্বনিকে বোঝানোর জন্য কোন চিত্র বা আঁকিবুকি ব্যবহার করা হোত । পরবর্তীকালে সেগুলোকেই একটু মার্জিত করে বর্ণমালা তৈরী করা হয়েছে । কোন কোন ভাষা পুরানো লিপি বদল করলেও সেই পুরানো লিপির উপর ভিত্তি করেই তা করা হয়েছে । তাই অবস্থার বিশেষ তারতম্য হয় নি । এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম, উপরে দেখানো ‘সাস’ (ইউনিফাইড স্ক্রীপ্ট) টি ।

    সাস (ইউনিফাইড স্ক্রীপ্ট) বা সংক্ষেপে ‘সাস’ কোন পূর্নাঙ্গ ভাষা নয়, এটি একটি ইউনিফাইড স্ক্রীপ্ট বা বাংলায়, সমন্বিত লিপি । সমন্বিত লিপি হলো এমন একটি লিপি যা দিয়ে পৃথিবীর সকল ভাষা লেখা সম্ভব । পৃথিবীতে হাজার হাজার গবেষক বহুসংখ্যক সমন্বিত লিপি আবিষ্কার করেছেন । তবে এদের একটিও পূর্ন সাফল্যের মুখ দেখে নি । এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ ‘সাস’ সমন্বিত লিপি । এটির উদ্ভব মাত্র ২০০৯ সালে । এই পুস্তিকায় সাস সমন্বিত লিপির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেয়া হয়েছে । একই সঙ্গে এই লিপি দিয়ে কিভাবে ইংরেজী ও বাংলাভাষা লেখা এবং কম্পিউটারে টাইপ করা যায়, বা তাতে কি কি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে তা বর্ণনা করা হয়েছে ।

    সাস ইউনিফাইড স্ক্রীপ্ট :
    বিজ্ঞানের অনেক উদ্ভাবন ইতিমধ্যে কার্য্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, কিছু কিছু প্রয়োগ করা হচ্ছে, আর কিছু এখনো পরীক্ষা নীরিক্ষার পর্য্যায়ে আছে । মাত্র ২০০৯ সালে উদ্ভাবিত সাসলিপি এখনও পরীক্ষা নীরিক্ষার স্তরে আছে । অতি সাম্প্রতিক কালে এটির বাংলা ও ইংরেজী কম্পিউটার ফন্ট তৈরী করা হয়েছে ।

    আগেই বলা হয়েছে, ইউনিফাইড স্ক্রিপ্ট বা সমন্বিত লিপি হচ্ছে এমন একটি লিপি যা দিয়ে পৃথিবীর সকল ভাষা লেখা সম্ভব । এধরনের একটি লিপি আবিষ্কার করা পৃথিবীর প্রখ্যাত ভাষাবিদদের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে শাসক কুবলাই খান এই প্রচেষ্টা শুরু করেন । তার প্রচেষ্টার ফল “ফাগ-স-পা” (সংযোজন -১ দ্রষ্টব্য) । এর পর হাজার হাজার বিশেষজ্ঞ এই লিপি উদ্ভাবনের চেষ্টা করেছেন । ভিতেলী ভিতেশ নামে একজন রাশিয়ান শিল্পী দীর্ঘ ২২ বৎসর পরিশ্রম করে ১৯৯৭ সালে ‘ইন্টারব্রেট’ (সংযোজন -২) নামে একটি সমন্বিত লিপি উদ্ভাবন করেন । আর সর্বাধুনিক “সাসলিপি” এসেছে মাত্র ২ বৎসর আগে ।

    এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, আগের সকল সমন্বিতলিপি ব্যর্থ হবার পর সাসলিপির সফল কোন সম্ভাবনা আছে কি ? এর উত্তর হলো, হ্যাঁ, আছে । এর কারণ, সাসলিপির মূলসুত্র আগের সকল ইউনিফাইড স্ক্রিপ্ট এর মূলসূত্রের তূলনায় একেবারে আলাদা।

    আগের সকল ইউনিফাইড স্ক্রিপ্ট এর আবিষ্কারকগন এই উদ্দেশ্যে যে একটি মাত্র মূলসূত্র অনুসরন করেছেন, তা এই রকম – “তারা বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহৃত সমোচ্চারিত বা প্রায় সমোচ্চারিত বর্ণ (যেমন ঃ বাংলা “ক”, ইংরেজী “k” এবং আরবী “কাফ”) চিহ্নিত করেছেন এবং এগুলি বহুল ব্যবহৃত বা নতুন উদ্ভাবিত কোন একটি লিপির মাধ্যমে প্রকাশ করেছন ।“ এই প্রচেষ্টার সমস্যা হলো, বিভিন্ন ভাষায় প্রায় সমোচ্চারিত বর্ণগুলির উচ্চারণ অবিকল একরকম নয় । যেমন, বাংলা “ক”, ইংরেজী “K” এবং আরবী “কাফ” এর প্রকৃত উচ্চারণ এক নয়। তাই এটি করা হলে কোন কোন ভাষার কথ্যরূপটি বিকৃত হয়ে যায় । কোন ভাষার উচ্চারণ বিকৃত হলে তা আর সেই ভাষা থাকে না । তাছাড়াও প্রশ্ন ওঠে, দীর্ঘদিন মানুষ যে লিপি ব্যবহার করে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, কেন তারা তা পরিবর্তন করতে রাজী হবে, যদি বিশেষ কোন সুবিধা না থাকে ?

    বিশেষ সুবিধাঃ
    (০১) ধরা যাক, ইংরেজী বা বাংলা বর্নমালা শিখতে একটি শিশুর কমবেশী এক বৎসর লেগে যায় । এখন লিপি সহজ হবার কারনে যদি এই সময়কাল যদি কমে মাত্র তিন মাস হয়, তাহলে তাকে কি বিশেষ সুবিধা বলা যায় ? এটা সম্ভব হলে দেশ, সমাজ বা পরিবারের উপর তার কি প্রভাব আসতে পারে তা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একবার বিবেচনা করা যাক । ধরা যাক, বাংলাদেশে প্রতি বৎসর আনুমানিক এক কোটি শিশুর বর্ণলিপি শেখার প্রয়োজন হয় এবং তাতে এক বৎসর সময় লেগে যায় । নতুন লিপি প্রবর্তনের ফলে এই সময় লাগলো তিন মাস । অর্থাৎ সময় কমে গেলো নয় মাস । এই নয় মাসে এই এক কোটি শিশুর জন্য ব্যয়িত কি পরিমান অর্থ, জিনিসপত্র, সময় এবং কষ্টের সাশ্রয় হবে ? প্রতিটি শিশুর জন্য এই বাবদে খরচ মাসে এক হাজার টাকা করে ধরলে সাশ্রয় হওয়া টাকার পরিমান হয়, নয় হাজার কোটি টাকা । তার মানে, দেশ শুধুমাত্র ভাষা লেখার লিপি বদল করে দেশের বা অভিভাবকদের নয় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে । বাংলা দেশের মতন দরিদ্র দেশে এই পরিমান সাশ্রয়কে কি বিশেষ সুবিধা বলা যায় ?

    (০২) পৃথিবীর কিছু কিছু ভাষার তূলনায় বাংলা ভাষার কতগুলি বিশেষ অসুবিধা আছে । যেমন, বাংলা লিখতে প্রায়ই বানান ভূল হয়, বর্ণগুলি জটীল হবার কারনে ভাষা দ্রুত লেখা সম্ভব হয় না, আবার দ্রুত লিখতে গেলেই দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে, বর্ণগুলির বিশেষ গঠনের কারনে “হাতের লেখা খারাপ” হবার সমস্যা দেখা দেয়, ইত্যাদি। লিপি বদলের ব্যবহারের কারনে এইগুলি যদি একেবারে দূর হয়ে যায়, তাহলে তাকে কি বিশেষ সুবিধা বলা যায় ?

    সাসলিপি যেহেতু এখনও বাস্তবে প্রচলিত হয় নি, তাই উপরের দাবীর সপক্ষে এখনই কোন প্রমান উপস্থাপন করা সম্ভব নয় । তবে এই লিপি সম্বন্ধে সম্বন্ধে বিস্তারিত জানার পর এই দাবীর সত্যতা আছে বলে মনে করার যুক্তিসঙ্গত কারন আছে ।

    আগেই বলা হয়েছে, সাস কোন পূর্ণাঙ্গ ভাষা নয়, এটি একটি লিপি । সাসলিপিগুলির নিজস্ব কোন উচ্চারণ নেই । বরং যে ভাষা লিখতে সাসলিপি ব্যবহার করা হয় লিপিগুলি সেই ভাষার বর্ণগুলির উচ্চারণ গ্রহণ করে । এর ফলে কোন ভাষারই কথ্যরূপ বিকৃত হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না । সাসলিপির সুবিধাগুলি হচ্ছেঃ

    (১) এই লিপির বর্ণগুলি এমন ভাবে বিন্যস্ত যে একটি মাত্র মূলসূত্র জানার পর তা অনুসরণ করে শিশুরা নিজেই পরের বর্ণগুলি তৈরী করে নিতে পারে ।

    (২) লিপিগুলি আকার (ফিগার) এর পরিবর্তে কেবলমাত্র সোজা দাগ (STROKE) দিয়ে তৈরী । এর ফলে ব্যক্তির বিভিন্নতার কারণে হাতের লেখায় ভূল, দুর্বোদ্ধতা বা ভাল খারাপের সম্ভাবনা খুব কমে যায় ।

    (৩) মাত্র ২, ৩ বা সর্বোচ্চ ৪টি দাগ দিয়ে (নীচের টেবিল দ্রষ্টব্য) লিপিগুলি তৈরী করা হয়েছে । তাই এগুলি সনাক্ত করা বা লেখা অত্যন্ত সহজ ।

    টেবিল নং ০১ : সাসলিপিতে ব্যবহৃত মোট ৪টি লাইনঃ

    (৩)ছোট উল্লম্ব লাইন

    বর্গক্ষেত্র (কল্পিত) (১) মাঝের লাইন (২)বড় উল্লম্ব (৪)ছোট
    লাইন আনুভূমিক লাইন
    কল্পিত বর্গক্ষেত্র– এর ভিতরে বর্ণ লেখা হবে,কোন কিছুই এর বাইরে যাবে না ।
    (১) মাঝের লাইন- এটি বর্গক্ষেত্রের মাঝে ব্যবহৃত হবে । তারপর এর চারটি স্থানে ২ ও ৩ নং লাইন এবং দুইটি স্থানে ৪ নং লাইনটি ব্যবহৃত হবে ।
    (২) বড় উল্লম্ব লাইন – এটি বর্গ প্রধান তৈরীর জন্য চারটি স্থানে ব্যবহৃত হবে ।
    (৩) ছোট উল্লম্ব লাইন – এটি প্রতিটি বর্গের বাকি ৪টি বর্ন তৈরীর জন্য চারটি স্থানে ব্যবহৃত হবে ।
    (৪) ছোট আনুভূমিক লাইন – বর্গক্ষেত্রের উপরে বা নীচে ২টি স্থানে ব্যবহৃত হবে ।

    সাসলিপি লেখার মূলসূত্র ঃ
    যে কোন ভাষার প্রচলিত লিপি পরিবর্তন করে সেখানে সাসলিপি প্রবর্তন করতে হলে নিম্ন লিখিত পথে অগ্রসর হতে হবে ।

    (১) সর্বপ্রথম ভাষার লিপিগুলিকে প্রতি পাঁচটির বর্গে ভাগ করতে হবে । এভাবে ২৬টি লিপির ইংরেজী ভাষায় ৬টী, বা ৪০টি (ধরা যাক) লিপির বাংলা ভাষায় ৮টি বর্গ হবে ।
    (২) বর্গের প্রথম বর্ণটি হবে বর্গপ্রধান ।
    (৩) শিশুদেরকে সবগুলি বর্ণের পরবর্তে প্রথমে শুধুমাত্র বর্গপ্রধানগুলির উচ্চারন শেখাতে হবে । সেক্ষেত্রে ইংরেজীর জন্য মাত্র ৬টি (অর্থাৎ, a, f, k, p, u এবং z) এবং বাংলার জন্য ৮ টি (যেমন, ক, চ, ট, ত, প, র, আ, এবং এ) বর্ণের উচ্চা্রন শেখাতে হবে ।
    (৪) এর পর তাদেরকে বর্গপ্রধানগুলির লিপি বা লেখা শেখাতে হবে । এক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, সাসলিপির প্রতিটি বর্ণ একটি বর্গক্ষেত্রের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে, এর বাইরে কোন কিছু থাকবে না । বর্গক্ষেত্রের মাঝ বরাবর থাকবে একটি আনুভূমিক লাইন। বর্গক্ষেত্রের উচ্চতা যতটা তার অর্ধেক উচ্চতার একটি লাইন (১ নং টেবিলের ২ নং লাইন) বর্গক্ষেত্রের পরিসীমার লাইন বরাবর নীচে বামকোণ থেকে ঘড়ির কাঁটার দিক অনুসরন চলতে থাকবে এবং ৪টি স্থানে বিভিন্ন ব্যবহৃত হয় । এগুলি স্থানগুলি হচ্ছে, (ক) নিচে বামে, (খ) উপরে বামে, (গ) উপরে ডানে এবং শেষে (ঘ) নীচে ডানে । এই নিয়মে ১৪ বা তার বেশী বর্গপ্রধান লেখা সম্ভব ।

    (৫) এর পর শিশুদেরকে প্রতিটি বর্গের অন্য বর্নগুলির (যেমন, ইংরেজীর ক্ষেত্রে, a বর্গের অধীনে b, c, d, d, e. বাংলায় ক-বর্গের অধীনে খ, গ, ঘ, য় ইত্যাদি) উচ্চারন শেখাতে হবে । তারপর তাদেরকে এই বর্নগুলির লিপি শেখাতে হবে ।

    (৬) বর্গের অন্যান্য বর্ণের লিপি লেখার জন্য আগের উল্লম্ব লাইনের মতন আকেকটি উল্লম্ব লাইন (১ নং টেবিলের ৩ নং লাইন) ব্যবহার করা হবে । এই লাইনটি পরিসীমার একটু ভেতরের দিকে বসবে । প্রতিটি বর্গপ্রধানের সেই চারটি স্থানে একই নিয়মে ছোট উল্লম্ব লাইনটি বসবে এবং এভাবে বর্গের বাকী ৪টি বর্ণ তৈরী হবে ।

    যেমনঃ a-বর্গপ্রধানের বাঁয়ে নীচে ছোট দাগটি দিলেই হয়ে যাবে b, দাগটি উপরে দিলে হবে c, উপরে ডানে দিলে হবে d,নীচে দিলে হবে e, ইত্যাদি ।

    একই ভাবে বাংলায় ক-বর্গপ্রধানের বাঁয়ে নীচে ছোট দাগটি দিলেই হয়ে যাবে খ, দাগটি উপরে দিলে হবে গ, উপরে ডানে দিলে হবে ঘ,নীচে দিলে হবে য়, ইত্যাদি) । এভাবেই অন্য বর্ণগুলির লেখা শেখাতে হবে ।

    (৭) ইংরেজী ভাষার ক্ষেত্রে উপরে তৈরী লিপিগুলি হবে স্মল লেটার । স্মল লেটারের উপরে আনুভূমিক ছোট লাইনটি (১ নং টেবিলের ৪নং লাইন) দিলেই সেগুলি হয়ে যাবে ক্যাপিটাল লেটার ।

    শিশুদেরকে বর্ণ তৈরী করার মূলসূত্রটি শিখিয়ে দিলে তারা নিজেরাই একে একে সবগুলি বর্ণ তৈরী করে নিতে পারবে। নিচের ছবিতে উল্লম্ব রেখা ব্যবহারের স্থানগুলি দেখানো হয়েছে ।

    টেবিল নং ০২ : বড় উল্লম্ব রেখা ব্যবহারের স্থানঃ

    অর্ধ উল্লম্ব লাইন ব্যবহারের ৪ টি স্থান
    প্রথম – নীচে বাঁয়ে
    দ্বিতীয় – উপরে বাঁয়ে
    তৃতীয় – উপরে ডানে
    চতুর্থ – নীচে ডানে ।

    টেবিল নং ০৩ : ছোট উল্লম্ব রেখা ব্যবহারের স্থানঃ
    ছোট উল্লম্ব লাইন ব্যবহারের ৪ টি স্থানপ্রথম – নীচে বাঁয়ে
    দ্বিতীয় – উপরে বাঁয়ে
    তৃতীয় – উপরে ডানে
    চতুর্থ – নীচে ডানে ।

    সাসলিপির সাহায্যে ইংরেজী ভাষা লেখা
    (০১) শিশুদেরকে প্রথমে শুধুমাত্র ইংরেজী ভাষার বর্গপ্রধানগুলির উচ্চারন শেখাতে হবে । এগুলি হলো, a, f, k, p, u এবং z । এর পর তাদেরকে এগুলির সাসলিপি শেখাতে হবে, যা নীচে দেয়া হয়েছে ।

    টেবিল নং ০৪ : ইংরেজী ভাষার ৬টি বর্গপ্রধানঃ
    a f k p u z
    k c t v p r

    এর পর তাদেরকে বর্গের অন্যান্য বর্ণের উচ্চারন শেখাতে হবে । উচ্চারন শেখার পর তাদেরকে ঐ বর্ণগুলির সাসলপি শেখাতে হবে । প্রতিটি বর্গপ্রধানের চারটি স্থানে একই নিয়মে ছোট উল্লম্ব লাইনটি বসিয়ে এগুলি তৈরী হবে । যেমনঃ a-বর্গপ্রধানের বাঁয়ে নীচে ছোট দাগটি দিলেই হয়ে যাবে b, দাগটি উপরে দিলে হবে c, উপরে ডানে দিলে হবে d,নীচে দিলে হবে e, ইত্যাদি । নিচে এগুলি দেখানো হল ।
    টেবিল নং ০৫ : বর্গপ্রধান থেকে অন্যান্য বর্নের সাসলিপি তৈরী
    বর্গপ্রধান বর্গের অন্যান্য বর্ন
    a b c d e
    k K g G y
    f g h i j
    c C j J l
    k l m n o
    t T d D h
    p q r s t
    v V z x n
    u v w x y
    p f b B m
    z
    r
    ইংরেজী স্মল লেটার শেখানোর পর তাদেরকে শেখাতে হবে যে যে কোন স্মল লেটারের উপর ছোট আনুভূলিক লাইনটি দিলেই সেটি হয়ে এযাবে ক্যাপিটাল লেটার । নীচে উদাহরন দেয়া হলো । এগুলি শেখার পর শিশুরা বর্ন দিয়ে শব্দ এবং শব্দ দিয়ে বাক্য লেখা শুরু করতে পারবে ।

    টেবিল নং ০৬ : ক্যাপিটাল লেটার তৈরী করা

    ইংরেজী স্মল লেটার a x t n
    স্মল লেটার-এর সাসলিপি

    ইংরেজী ক্যাপিটাল লেটার A X T N
    ক্যাপিটাল লেটার-এর সাসলিপি

    কম্পিউটারাইজড ফন্ট এর সাহায্যে ইংরেজী লেখা ঃ
    ইংরেজী ভাষার সাসলিপির লেখার জন্য কম্পিউটারাইজড ফন্ট পাওয়া যায় । এটি ইন্সটল করে নিলেই যে কোন কম্পিউটার কি বোর্ড দিয়ে ঠিক ইংরেজী লেখার মতন সাসলিপিতে ইংরেজী লেখা যায় । সাসলিপি দিয়ে এত সহজে ইংরেজী লেখা যায় যে এজন্য কোন “কি-এসাইনমেন্ট চার্ট” এর প্রয়োজন হয় না । উপরে দেখানো ৫নং টেবিলটি ইংরেজী ভাষার জন্য সাসলিপির কি-এসাইনমেন্ট চার্ট ।

    সাসলিপি দিয়ে বাংলা লেখা
    ইংরেজী ভাষার শুধুমাত্র বর্ণ দিয়েই সবকিছু লেখা হয় । কিন্তু বাংলা, আরবী এসব ভাষা লিখতে বর্ণ ছাড়াও লাগে স্বরচিহ্ন । এগুলি লেখার জন্য সাসলিপিতে সাসলিপির মাঝখানে বিভিন্ন মাপের বা ধরনের উল্লম্ব লাইন দেবার কথা বলা হয়েছে । নীচে এই চিহ্ন ও ফলাগুলি দেখানো হলো ।
    া ি ী ু

    ূ ে ৈ ো

    ৌ হসন্ত ৃ ্য-ফলা

    ্র-ফলা

    এভাবে বাংলাভাষার স্বরচিহ্ন (যেমন, আ-কার, ই-কার ইত্যাদি) দিয়ে ভাষা লেখা সম্ভব । এখানে উল্লেখ করা যায় যে, এই সব চিহ্ন ছাড়াও বাংলা ভাষায় এগুলি উচ্চারনের জন্য
    আলাদা বর্ন দেয়া হয়েছে । এগুলি ব্যবহার করে খুব সহজেই বাংলাভাষা ইংরেজীর মতন সহজে লেখা বা টাইপ করা সম্ভব । তবে এসব কিছু করার জন্য প্রয়োজন বাংলা ভাষার সংস্কার করা । এখন আমরা এই সংস্কার সম্বন্ধে আমাদের প্রস্তাব রাখতে চাই ।

    বাংলা ভাষার সমস্যা :
    এযুগে বাংলা ভাষা যে সব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তা নীচে দেয়া হলো । বাংলা লেখা ও টাইপ করার ক্ষেত্রে দেখা যায়, (ক) বাংলাভাষায় অক্ষরের সংখ্যা অত্যন্ত বেশী, (খ) এই ভাষায় আছে স্বর ও ব্যঞ্জনচিহ্ণ এবং এগুলির বর্ণের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার, (গ) আছে প্রায়-সমোচ্চারিত বর্ণ (যেমন জ, য । শ, ষ । ন, ণ । ই, ঈ, উ, ঊ ইত্যাদি), যে গুলি শোনার পর লিখতে গেলেই সংশয় দেখা দেয় এবং ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে, (ঘ) আছে অসংখ্য সংযুক্ত বর্ণ, যে গুলি লেখা বা টাইপ করা কষ্টকর । এইসব কারনে সাম্প্রতিক কালে তরুন প্রজন্ম কম্পিউটার ও মোবাইলে প্রধানত: ইংরেজী বর্ণমালা ও কি-বোর্ড ব্যবহার করে থাকে।

    বাংলা বর্ণমালাকে আধুনিক করার নানা পন্থা গ্রহণ করা হলেও এসব সমস্যার সমাধান হয় নি । বিশেষজ্ঞদের মতে ভাষার মৌলিক সংস্কার না করা হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে না । লেখ্য বাংলার এইসব সমস্যা অব্যাহত থাকার সুযোগে ইংরেজী ক্রমে ক্রমে বাংলার স্থান দখল করে নিচ্ছে । আজকের তরুন প্রজন্ম সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে ইংরেজি কি বোর্ড ব্যবহার করছে । ইংরেজী হরফে প্রেরিত বার্তা অনুরূপভাবে উচ্চারণ করতে গিয়ে তারা বাংলাভাষার উচ্চারণকেও বিকৃত করে ফেলছে । এমন অবস্থায় সংস্কার আমাদের জরুরী প্রয়োজন ।

    সংস্কার প্রস্তাবঃ
    আমাদের সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আছে -
    (ক) অপ্রয়োজনীয় বর্ণের বিলুপ্তি ঃ বাংলাভাষার সংস্কারের জন্য অপ্রয়োজনীয় বা বহুল ভাবে ব্যবহৃত নয় এমন বর্ণ অথবা একই উচ্চারণের বিকল্প বর্ণ আছে এমন বর্ণিগুলি বাদ দেয়া যায় । এই কারনে নীচের বর্ণ/বর্নচিহ্ণগুলি বাদ দেয়া যায় :
    ৭ টি ব্যঞ্জনবর্ণ : ঙ ঞ ণ য ঢ় ৎ ক্ষ ।
    ৪ টি স্বরবর্নঃ ঈ ঊ ঐ ঔ ।
    ৬ টি স্বরচিহ্ণ : া ি ু ে ো ।
    ১ টি ব্যাঞ্জনচিহ্ণ : রেফ ।
    ১ টি ফলাঃ য –ফলা।

    (খ) সংযুক্ত বর্ণের বিলুপ্তিঃ ভাষায় সংযুক্ত বর্ণ থাকলেই তা লেখা বা টাইপ করার সময় নতুন একটি অক্ষরের প্রয়োজন হয়, যা ভাষার জটিলতা বাড়ায় । তাই ভাষা সহজ ও সুবিধাজনক করার জন্য সংযুক্ত অক্ষর বিলুপ্ত করা প্রয়োজন । দেখা যায়, সংযুক্ত বর্ণ বাদ দেবার পরও হসন্ত-চিহ্ন এবং একটি বিশেষ ফলা-চিহ্ণ (প্রস্তাবিত) ব্যবহার সকল সংযুক্ত বর্ণই অবিকল আগের মত উচ্চারণ করা যায় ।

    বাংলায় দুটি কারনে সংযুক্ত বর্ণ ব্যবহৃত হয় । প্রথমতঃ স্বরবর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের মাঝে এবং ব্যঞ্জন বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের প্রথমে বা মাঝে, যে কোন দুটি বর্ণ দ্রুত উচ্চারনের জন্য । যেমন – আন্তরিক, আনন্দ । হসন্ত ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলির একই রকম উচ্চারন পাওয়া যায় । যেমন – আন্ তরিক, আনন্ দ ।

    দ্বিতীয় ধরনের সংযুক্ত বর্নগুলিতে দুটি বর্নের উচ্চারন এমন নিবিড় ভাবে মিশিয়ে ফেলা হয় । হসন্ত ব্যবহার করে এগুলির উচ্চারন একই রাখা সম্ভব হয় না । এগুলিকে ‘ফলা’ বলা হয় । যেমন – প্লাবন, অক্লান্ত ইত্যাদি । হসন্ত ব্যবহার করে অক্লান্ত লিখলে তা হবে ‘অক্ লান্ত’ । এই উচ্চারন কোনক্রমেই ‘অক্লান্ত’ নয় । সাসলিপিতে যে ফলা চিহ্নের প্রস্তাব করা হয়েছে তা দিয়ে এই উচ্চারন অবিকৃত রাখা সম্ভব ।

    (গ) স্বর ও ব্যঞ্জন চিহ্ণের বিলুপ্তিঃ ইংরেজী ভাষায় কোন স্বরচিহ্ণ ছাড়াই শুধুমাত্র স্বরবর্ন দিয়ে এর আগের ব্যঞ্জন বর্ণের উচ্চারণ রূপান্তরিত করা যায় । বাংলায় এটি প্রবর্তন করাইয় কোন অসুবিধা নেই । এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা হল, এই স্বর-চিহ্নগুলির বিকল্প স্বরবর্ণ বাংলায় আগে থেকেই আছে । বাংলা সাসলিপিতে স্বরবর্ণগুলির বাম পাশে আগাগোড়া উল্লম্ব লাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে এগুলি সহজেই ব্যঞ্জনবর্ন থেকে আলাদা ভাবে চেনা যায় । এই স্বরবর্ণগুলি শব্দের প্রথমে ব্যবহৃত হলে স্বরবর্নের উচ্চারন পাবে, আর মাঝে বসলে এটি আগের ব্যঞ্জনবর্ণটির উচ্চারণ পরিবর্তন করে দেবে ।

    উপরের নিয়মগুলি গ্রহন করা হলে অতিরিক্ত বর্ণ ও চিহ্ন বাদ দিয়ে এবং অতিরিক্ত একটি ফলা চিহ্ন যোগ করে বাংলা বর্নমালা ও চিহ্ণের মোট সংখ্যা হবে ৪০ + ২ = ৪২ ।

    প্রচলিত কম্পিউটারের কি বোর্ডে ইংরেজী ২৬ টি স্মল ও ২৬টি ক্যাপিটাল লেটারের জন্য মোট ৫২টি কি (চাবি) আছে । বাংলার জন্য এই কি-বোর্ড ব্যবহার করা হলে সবগুলি চাবি এসাইন করার পর আরও (৫২-৪২=১০) ১০টি চাবি পাওয়া যাবে । প্রয়োজন হলে এই গুলিতে আরো বাংলা বর্ণ এসাইন করা যাবে । এই অতিরিক্ত বর্ণগুলি হতে পারে, ঙ, ঞ, ণ, য, ষ, ণ, ঢ়, ঈ, ঊ ইত্যাদি। তবে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রায় সমোচ্চারিত বর্ণ বা বর্ণচিহ্নগুলি যোগ করা হলেই “বানান ভূল” সমস্যার সৃষ্টি হবে ।

    বংলা বর্নমালার ৪২টি বর্ণ ও চিহ্নঃ

    সংস্কারের পর বাংলা বর্নমালার যে ৪০ টি বর্ণ পাওয়া যাবে সেগুলি হলোঃ

    টেবিল নং ০৭ : বাংলা সাসলিপির ৪০টি বর্নঃ

    ক খ গ ঘ য় / চ ছ জ ঝ ল / ট ঠ ড ঢ হ / ত থ দ ধ ন /
    প ফ ব ভ ম / র ড় স শ অ / আ অ্যা ই উ ঋ /এ ও ং ঃ ঁ

    এখন আমরা এই বর্নগুলিকে প্রতি ৫টি বর্ণের ৮টি বর্গে ভাগ করব এবং বর্গপ্রধান ও বর্গের অন্যান্য বর্ণের স্থান নির্ধারন করব । এগুলি নীচের টেবিলে দেখানো হয়েছে ।

    টেবিল নং ০৮ : বর্ণমালাকে বর্গে ভাগ, বর্গপ্রধান ও বর্ণের স্থান নির্ধারন

    বর্গ বর্গপ্রধান বর্গের ১ম বর্ন বর্গের ২য় বর্ন বর্গের ৩য় বর্ন বর্গের ৪র্থ বর্ন
    প্রথম ক খ গ ঘ য়
    দ্বিতীয় চ ছ জ ঝ ল
    তৃতীয় ট ঠ ড ঢ হ
    চতুর্থ ত থ দ ধ ন
    পঞ্চম প ফ ব ভ ম
    ষষ্ঠ র ড় স শ অ
    সপ্তম (স্বর) আ অ্যা ই উ ঋ
    অষ্টম (স্বর) এ ও ং ঃ ঁ

    উপরে বর্নিত নিয়ম অনুসরণ করে বর্গপ্রধানগুলির সাসলিপি যেভাবে লেখা হবে তা নিচে দেখানো হয়েছে । লক্ষ্যনীয় যে, স্বরবর্নগুলি আলাদা বোঝানোর জন্য এদের বাম পাশে আগাগোড়া উল্লম্ব লাইন রাখা হয়েছে ।

    টেবিল নং ০৯ : বাংলা সাসলিপির ৮ টি বর্গপ্রধানঃ
    k c t v p r a e
    ক চ ট ত প র আ এ
    ব্যঞ্জন বর্ন স্বরবর্ন ও চিহ্ন

    বর্গপ্রধান থেকে বর্গের অন্যান্য বর্ণ তৈরীর নিয়ম আগেই বলা হয়েছে । সেভাবে যে বর্ণগুলি তৈরী হবে তা নিচে দেখানো হলো ।

    টেবিল নং ১০ : বাংলা সাসলিপির ৪০ টি বর্ন ও ২ টি চিহ্নঃ

    বর্গপ্রধান বর্গের অন্যান্য বর্ন
    k K g G y
    ক খ গ ঘ য়
    c C j J l
    চ ছ জ ঝ ল
    t T d D h
    ট ঠ ড ঢ হ
    v V z x n
    ত থ দ ধ ন
    p f b B m
    প ফ ব ভ ম
    r R s S o
    র ড় স শ অ
    a A i u w
    আ অ্যা ই উ ঋ
    e O q Y N
    এ ও ং ঃ ঁ
    H F
    হসন্ত বোঝানোর বর্ন ফলা বোঝানোর বর্ন
    কম্পিউটারাইজড ফন্ট এর সাহায্যে বাংলা লেখা ঃ
    উপরে যে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি মেনে এই ভাষার সাসলিপির লেখার জন্য তৈরী কম্পিউটারাইজড ফন্ট পাওয়া যায় । এটি ইন্সটল করে নিলেই যে কোন কম্পিউটার কি বোর্ড দিয়ে ঠিক ইংরেজী লেখার মতন সহজে বাংলার সাসলিপি টাইপ করা যায় । বাংলা বর্ণের সংখ্যা মাত্র ৪২, যা ইংরেজীর চায়েও কম । সেই কারনে এবং সাসলিপিগুলি একটা যুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়েছে বলে এগুলি খুব সহজেই মনে রাখা যায় । তবে প্রাথমিক অবন্থায় একটি কি-এসাইনমেন্ট চার্ট সামনে থাকলে খুব সুবিধা হয় । নীচে বাংলা ফন্টের জন্য সাসলিপির ইংরেজী কি বোর্ডের এসাইনমেন্ট চার্ট দেখানো হয়েছে ।

    টেবিল নং ১০ : বাংলা সাসলিপির ফন্টের কম্পিউটারাইজড
    কি-এসাইনমেন্ট

    ক খ গ ঘ য়
    k K g G y
    চ ছ জ ঝ ল
    c C j J l
    ট ঠ ড ঢ হ
    t T d D h
    ত থ দ ধ ন
    V z q x n
    প ফ ব ভ ম
    p P b B m
    র ড় স শ অ
    r R s S o
    আ অ্যা ই উ ঋ
    a A i u w
    এ ও ং ঃ ঁ
    e O N Y M
    ফলা চিহ্ন হসন্ত চিহ্ন
    F H

    দেখা যাচ্ছে, কেবলমাত্র নীচের ৮টি বর্ন ছাড়া বাকী সব বর্ণই ইংরেজী বর্ণের উচ্চারনের সাথে মিল রেখে এসাইন করা হয়েছে । দুই ভাষার বিভিন্নতার কারনে এই কয়টিতে মিল রাখা সম্ভব হয় নি। সেক্ষেত্রে যারা কম্পিউটারাইজড ফন্ট ব্যবহার করবেন তাদেরকে শুধুমাত্র এই কয়টি ‘কি’ মনে রাখতে হবে ।

    ত (V), থ (z), দ (q), ধ (x),
    ঋ(w), ং (N), ঃ(Y), ঁ (M)

    সাসলিপি দিয়ে বাংলা লেখা ঃ
    উপরোক্ত ভাবে সংস্কার করার পর বাংলাভাষা শুধুমাত্র বর্ণ বা অক্ষর দিয়ে লেখা হবে । তাই প্রচলিত বাংলায় যেসব চিহ্ন বা সংযুক্তবর্ণ ব্যবহৃত হয় সাসলিপিতে সেগুলির উচ্চারনজ্ঞাপক বর্ণগুলি আলাদা আলাদা ভাবে লিখলেই শব্দটি লেখা হয়ে যায় । নীচের টেবিলে এটি দেখানো হয়েছে ।

    টেবিল নং ০৮ : সাসলিপি দিয়ে বাংলা শব্দ লেখা
    লিজেন্ড ঃ ১। বাংলা শব্দ,
    ২। এই শব্দের মধ্যে যেসব বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলি ।
    ৩। ২এ ব্যবহৃত প্রতিটি বাংলা লিপির সম-স্থানের সাসলিপি ।
    ১ আ মা র সো না র
    ২ আ ম আ র স ও ন আ র
    ৩ a m a r s O n a r

    ১ বাং লা আ মি
    ২ ব আ ং ল আ আ ম ই
    ৩ b a q l a a m i

    ১ তো মা য় ভা লো বা সি
    ২ ত ও ম আ য় ভ আ ল ও ব আ স ই
    ৩ v O m a y B a l O b a s i

    খ। সাসলিপির স্বর ও ব্যঞ্জন বর্ন চেনার উপায় ঃ
    সাসলিপিতে ব্যাঞ্জনবর্ণ, স্বরবর্ণ ও স্বরচিহ্ন এবং কয়েকটি বিশেয চিহ্ন আছে । এগুলি চেনার উপায় হচ্ছে, স্বরবর্ণগুলির বায়ে উপর থেকে নীচে উল্লম্ব রেখা রয়েছে, যা কোন ব্যঞ্জন বর্নে নেই । যেমন ঃ

    U(আ), A(অ্যা), I(ই), u (উ), W (ঋ),
    e(এ), O(ও), q (ং), Y(ঃ), N (ঁ)।

    স্বর বর্ণ বা চিহ্ন গুলি যখন কোন শব্দের প্রথমে ব্যবহার করা হয় তখন এদের উচ্চারন অক্ষুন্ন থাকে । যেমন – আবার । (আ এর উচ্চারন আ-ই আছে) । আর শব্দের মাঝে ব্যবহার করা হলে (উল্লম্ব লাইন দেখে সহজে বোঝা যায়) এগুলি পুর্ববর্তী বর্নের উচ্চারন পরিবর্তন করে । যেমন- ব + আ + ক = বাক ( আ এর উচ্চারন ব এর সাথে যুক্ত হয়ে ‘বা’ হয়েছে) । এক্ষেত্রে ব এর অ উচ্চারন অক্ষুন্ন রাখতে চাইলে লিখতে হবে, ব + অ + আ + ক = (উচ্চারন হবে ‘বআক’) ।

    বিশেষ চিহ্ন : সাস বাংলা লিপিতে বিশেষ চিহ্নের মধ্যে আছে – ফলা চিহ্ন (F / F)ও হসন্ত চিহ্ন ( H /H )। এই দুটির পাশে কোন উল্লম্ব লাইন নেই, যা একেবারে ব্যতিক্রম। বাংলা লিখতে আমরা বর্নের নীচে ডান পাশে হসন্ত ব্যবহারে করে থাকি । সাসলিপির হসন্ত চিহ্নটিও অনুরূপ । ফলা চিহ্নটি এর বিপরীত ।

    গ। হসন্ত এবং ফলা দিয়ে সংযুক্ত বর্ন ও শব্দ লেখাঃ
    হসন্ত ও ফলা দিয়ে লেখা কিছু শব্দ নীচের টেবিলে দেখান হয়েছে ।

    টেবিল নং ০৯ : হসন্ত এবং ফলা দিয়ে সংযুক্ত বর্ন

    বাংলা শব্দ উপরে – ব্যবহৃত বাংলা বর্ন সমূহ
    নীচে – ব্যবহৃত বাংলা বর্নের সাসলিপি
    প্লাবন পলআ বন
    PFlabn
    (প ও ল এর মাঝে ফলা চিহ্ন)
    ঝঞ্জাবিদ্ধস্ত ঝন জআ বই দধ সথ
    JnHjabizFxsV
    (ন এর পর হসন্ত, দ ও ধ এর মাঝে ফলা চিহ্ন)
    অগ্নুৎপাত অ গনউ ত পআ ত
    ogFnutpav
    ( গ ও ন এর মাঝে ফলা)
    প্রলয়ঙ্করী পর ল য় ংক রই
    pFrlyqkr
    (প ও রএর মাঝে ফলা)
    বিপজ্জনক বই পজ জ ন ক
    bipjHjnk
    (প ও জ এর পরে হসন্ত)
    প্রচন্ড পর চন ড
    pFrcnHd
    (প ও র এর মাঝে ফলা, চ ও ন এর পরে হসন্ত )
    সাংঘাতিক সআং ঘআ তই ক
    saqGatik
    (কোন ফলা বা হসন্ত নাই)
    স্পর্শ সপ (রেফ)শ
    sFprHS (স ও প এর মাঝে ফলা চিহ্ন এবং প ও র এর পরে হসন্ত চিহ্ন)

    বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত (সাসলপিতে)
    (কম্পিউটারাইজড ফন্ট ব্যবহার করে লেখা)

    Jatiy sqgit
    Amar sOnar baqla,
    ami vOmay BalObasi.

    Cirzin vOmar akaS vomar batas amar pFrane bNajay bnaSi.

    Oma fagune vOr amer bne GFne pagl kre

    Mri hay, hay re .

    Oma, oGFrane tOr Bra Keve ami ki deKeCi mzur hasi.

    Ki SOBa ki maya gO, ki sFnh ki maya gO .

    Ki aNcl biCayeC bter mule, nzir kule kule .

    Ma tOr muKer bani amar kane lage suzar mv.
    Mri hay hay re

    Ma vOr bdnKani mlin hole , O ma ami nyn jle Basi .
    জাতীয় সঙ্গীতের কয়েকটি লাইন
    (ইটালিক্স-এ দেখানো হয়েছে, শেষ দুউ লাইন বোল্ড করা হয়েছে)
    Jatiy sqgit
    Amar sOnar baqla,
    ami vOmay BalObasi.

    Cirzin vOmar akaS vomar batas amar pFrane bNajay bnaSi.

    Oma fagune vOr amer bne GFne pagl kre (বোল্ড)
    Mri hay, hay re .

    উপসংহার :
    “পৃথিবীর সকল ভাষা লিখতে সক্ষম” এই দাবী নিয়ে আসা সাসলিপির জন্ম মাত্র ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে । স্বাভাবিক ভাবেই এই দাবী প্রমানের জন্য যে সময় ও সুযোগের প্রয়োজন সাসলিপি এখনও তা পায় নি।

    এই পুস্তিকায় প্রচলিত বাংলালিপির পরিবর্তে “সাস” লিপি নামে যে লিপি দেখানো হয়েছে, তার সাথে প্রচলিত বাংলালিপির নিরপেক্ষ তূলনা করা কোন বাংলাভাষীর পক্ষেই সম্ভব নয় । এর কারণ, প্রচলিত বাংলা লিপি আজন্মকাল থেকে দেখে আসায় তাদের কাছে সেগুলি একেবারেই পরিচিত, সহজ এবং আপন মনে হবে । অন্য দিকে “সাস” লিপি তাদের আপন মনে হওয়ার মতন কোন কারন এখনও সৃষ্টি হয় নি । এদেশে আমরা মূলতঃ বাংলা, ইংরেজি বা আরবী লিপির সঙ্গে বেশি পরিচিত । এর সবগুলিই “ফিগার” ধরনের লিপি । চীনা, জাপানী বা কোরিয়ান ভাষা স্ট্রোক ভিত্তিক । আমাদের কাছে যাই মনে হোক না কেন, এগুলি লেখা সহজ এবং অনেক দ্রুত লেখা যায় । এই ধরনের লিপি দিয়ে তারা সাহিত্য, বিজ্ঞান, হিসাব সহ সব কাজই অনায়াসে করে থাকে । সাসও একটি স্ট্রোক ভিত্তিক লিপি । তবে, একটি সহজ যুক্তির ভিত্তিতে তৈরী করা হয়েছে বলে এটি অন্য স্ট্রোক ভিত্তিক লিপির তূলনায় অনেক সহজ ।

    এই পুস্তিকায় যে সাস লিপি দেখানো হয়েছে তা তৈ্রী করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে । আমরা কমপিউটার গ্রাফিক্স বিশেষজ্ঞ নই । “পেইন্ট” প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এগুলি করা হয়েছে । আমরা জানি, বিশেষজ্ঞের হাতে পড়লে এগুলির চেহারা অনেক সুন্দর হবে । আর দক্ষ শিল্পীর হাতে পড়লে এ থেকেই চমৎকার সব “ফন্ট” বেরিয়ে আসবে । এই সীমাব

  4. md mminhazur rahman says:

    হ এর উ কার চিন্হ হ এর নিচে না দিয়ে উপরে দেওয়া হয় কেনো?
    ব্যাখ্যা দিবেন দয়া করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>