নাস্তির থেকে অস্তি

নাস্তির থেকে অস্তি – ধর্ম, দর্শন আর বিজ্ঞান। এই ত্রিমূর্তি আমাদের অস্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। এর মধ্যে ধর্ম হলেন জ্যেষ্ঠ, বাঘের দাঁত খিঁচুনিতে নাড়ী ছেড়ে দেওয়া বা বন্যার জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য দক্ষিণরায় বা বরুণদেব হয়ে আছেন আমাদের সঙ্গে। …
সুমিত রায়

This entry was posted in Religion, Science, Technology. Bookmark the permalink.

3 Responses to নাস্তির থেকে অস্তি

  1. HIMADRI SEKHAR DATTA says:

    খুব উতসাহ নিয়ে পড়া শুরু করি। কিন্তু নিজের অক্ষমতায় পড়া শেষ করার পরে মাথায় কিছু জন্ম নিতে পারলো না। খুব কঠিন বিষয় সন্দেহ নেই, কিন্তু জার্গন বাদ দিয়ে আরেকটু সহজ করে কি বোঝানো যেতো না? সুমিত বাবুর মত পন্ডিত মানুষের কাছে সেই অনুরোধটুকু রাখছি।

  2. Sumit Roy says:

    ধন্যবাদ। আপনার অনুরোধ অতি সঙ্গত, রাখার চেষ্টা করবো, আমার সাধ্যমতো।

    “জার্গন বাদ দিয়ে”-টা ঠিক বুঝলাম না; বেশী বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়েছে?

  3. Dilip Das says:

    ‘নাস্তির থেকে অস্তি’, – সৃষ্টির শুরু কি ভাবে হলো সেই নিয়ে সভ্যতার আদিযুগ থেকে বিভিন্ন কল্পনা চলে আসছে। সৃষ্টির শুরুর অবস্থা নিয়ে ঋগ্বেদের ঋষির কল্পনা আজকের বিজ্ঞানের সাথে বেশ কিছুটা মিলে যায়। যেমন এই সূক্তটি “সেই সময় অস্তি বা নাস্তি কিছুই ছিল না, (Even nothingness was not there), তখন বাতাস বা অন্তরীক্ষ, কিছুই ছিল না। তখন না ছিল মৃত্যু, বা অমৃতত্ত্ব, আর রাত্রি বা দিন কিছুই ছিল না। (“নাসদাসীন্নো সদাসীত্তদানীং নাসীদ্রজো নো ব্যোমা পরো যৎ।…। ন মৃত্যুরাসীদমৃতং ন তর্হি, ন রাত্র্যা অহ্ন আসীৎপ্রকেতঃ” ঋগ্বেদ 10.129.1-3)। আরো একটি সূক্তে সৃষ্টির শুরুতে এক বিরাট পুরুষের কথা বলা আছে যাঁর জন্মমাত্রই অসম্ভব দ্রুত সুবিশাল ব্যাপ্ত হয়ে সামনে ও পেছনের সমস্ত স্থান অধিকার করে ফেলেছিলেন (স জাত অত্যরিচ্যত পশ্চাদ ভূমি অথো পূরঃ,) ও তিনি তাঁর তিন-চতুর্থাংশে সারা বিশ্ব ও স্বর্গ ছাপিয়ে ফেলেও বাকী এক চতুর্থাংশের থেকে নিজেকে পুনরায় সৃষ্টি করেছিলেন (ঋগ্বেদ 10.90.3-5)। কিন্তু নাস্তির থেকে অস্তি হয় কি ভাবে, এই কথাটা যে প্রাচীন ঋষিদের ভাবিয়ে তুলেছিল, এর প্রমাণ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখি। তৈত্তিরীয় উপনিষদে তার প্রতিধ্বনি শুনি – এই দৃশ্যমান জগত সৃষ্টির পূর্বে অব্যাকৃত রূপেই ছিল। তার থেকেই এই সমস্ত উৎপত্তি (“অসদ্বা ইদমগ্র আসীৎ। ততো বৈ সদ্জায়ত” তৈ উ ২.৪৪)। অনেক ভেবেও সৃষ্টির কারণ বুঝতে না পেরে ঋষি বলছেন– এই সৃষ্টি কোথা থেকে হলো, কিসের থেকে হলো, কে সৃষ্টি করেছেন তা পরমধামে যেই প্রভু আছেন তিনিই জানেন, অথবা তিনিও না জানতে পারেন। (“ইয়ং বিসৃষ্টির্যত আবভূব যদি বা দধে যদি বা ন।যো অস্যাধক্ষঃ পরমে ব্যোমন্তসো অংগ বেদ যদি বা ন বেদ” ঋগ্বেদ 10.129.7)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>