গানের ভুবন, প্রাণের ভুবন

গানের ভুবন, প্রাণের ভুবন – আমার খুব আফশোস। কত কিন্নরকণ্ঠ কিন্নরকন্ঠী মানুষজন দেখি, অথচ আমি … গান গাইতে গেলেই হাঁড়িচাঁচা লজ্জা পেয়ে যাবে ! অগত্যা আমার শুধুই ওই যাকে বলে “চানঘরে গান।” …
ঈশানী রায়চৌধুরী

This entry was posted in music. Bookmark the permalink.

9 Responses to গানের ভুবন, প্রাণের ভুবন

  1. একটু প্যারাব্রেক পেলে ভাল লাগতো। খুব দামী লেখা হতে যাচ্ছে কিন্তু।

  2. Ishani says:

    দেখছি ত্রুটি সংশোধন করে দেওয়া যায় কিনা |

  3. Somen Dey says:

    ‘আলাপ’ টি সুরে বাঁধা হয়েছে । সুরেলা ‘জোড়’ এর অপেক্ষায় থাকলাম ।

  4. Keya Mukhopadhyay says:

    বিষয় নির্বাচনের জন্য লেখিকাকে সাধুবাদ জানাই। এই লেখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।

    ভারতীয় সংগীত বা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে উপমহাদেশীয় সংগীত সুপ্রাচীন। তার প্রথম প্রামাণ্য নিদর্শন সিন্ধু সভ্যতার আমলের নৃত্যরতা নারীমূর্তি। বলতে গেলে ভারতীয় উপমহাদেশই সামগ্রিকভাবে প্রাচ্য সংগীতের সূচনাস্থল। কম্বোডিয়া, চিন, জাপানের মতো দেশগুলোর সংগীত ভারতীয় স্বরগ্রাম ব্যবহার করেই সমৃদ্ধ হয়েছিল।

    সারা ভারতের সাহিত্যচর্চায় গানবাজনাকেন্দ্রিক রচনা তেমন উল্লেখযোগ্য নয় — তা কিন্তু নয়। বরং সারা পৃথিবীর মধ্যে ভারতেই প্রথম সুপ্রাচীন কাল থেকে সংগীত শাস্ত্রের বিভিন্ন আকর গ্রন্থ লেখা হয়েছে। সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। এখনো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ পাঠক সংগীতের ইতিহাসের চেয়ে বেশি পছন্দ করে গানের মজিলিশি গল্প। সে কথা মাথায় রেখেই কুমারপ্রসাদবাবু লিখেছিলেন ‘মজলিস’, ‘ম্যহফিল′, ‘দিশি গান বিলিতি খেলা’ বা ‘কুদরত রঙ্গিবিরংগী’। তারও আগে আচার্য জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ লিখেছিলেন ‘তহজিব-এ-মৌসিকি’। একের পর এক গানের গল্প আর সংগীতজ্ঞের গল্প থেকে বেরিয়ে এসেছে উপমহাদেশীয় সংগীতের ইতিহাস।
    আর যদি গল্প বাদ দিয়ে গানের ইতিহাসের কথা খুঁজে দেখতে হয় বইতে, তাহলেও অনেক প্রামাণ্য বই আছে বৈকি। ইংরেজিতে মৃগাঙ্কশেখর চক্রবর্তীর Indian Musicology, ডঃ লাভলি শর্মার Glimpses on Indian Musicology, রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়েছে An introduction to Indian Music and Musicology, গৌতম নাগের সম্পাদনায়।
    নিত্যানন্দ সাহার সম্পাদনায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি প্রকাশ করেছে ‘সংগীতশাস্ত্র সমীক্ষা’, আছে নিত্যানন্দ সাহার ‘সংগীতশাস্ত্র পরিচয়’, বিমল রায়ের ‘ভারতীয় সংগীত প্রসঙ্গ’, বিমলাকান্ত রায়চৌধুরীর ‘ভারতীয় সংগীতকোষ’। লিখেছেন রাজ্যেশ্বর মিত্র, কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন ঠাকুর, অমিয়নাথ সান্যাল প্রমুখ। আর একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই হল সুকুমার রায়ের ‘ভারতীয় সংগীত – ইতিহাস ও পদ্ধতি’। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, সংগীত রিসার্চ আকাদেমি, রবীন্দ্রভারতী বা বংগীয় সাহিত্য পরিষদে এই বইগুলো পাওয়া যায় বলেই ধারণা। এমন একটি প্রামাণ্য লেখায় এই বইগুলোর অন্তত কয়েকটা খুব সহায়ক হতে পারে।

    আর একটা পত্রিকার কথা না বললেই নয়। আটত্রিশ বছর ধরে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা ‘সঙ্গীতবিজ্ঞান-প্রবেশিকা’ ভারতীয় সংগীতের চর্চায় খুব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। এর অন্যতম সম্পাদক ছিলেন গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী। শুধু সংগীত নিয়ে সাধারণ একটি বাংলা পত্রিকার ক্রমান্বয়ে ৪৫৮ টি সংখ্যা প্রকাশ করা বড় সহজ কথা নয়। আমার দাদু পণ্ডিত গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাত্র ছিলেন। দাদুকে দেখিনি, কিন্তু তাঁর সূত্রেই বাড়িতে রাখা পুরনো এই পত্রিকা দেখার সুযোগ হয়েছিল।

    আমির খসরু —
    আধুনিক মার্গ সংগীতের জনক হিসেবে আমির খসরুকে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টা খুবই বিতর্কিত।
    ক্বওল (যা থেকে ক্কওলি বা কাবালি) রীতির সঙ্গীত তিনি তৈরি করেন বলা হয়। আসলে ক্বওলের একটা মধ্যপ্রাচ্যীয় রূপ আগেই ছিল। আমির খসরু নিজের সুফি কাব্য আর মুহম্মদ রসুলের বাণীর সঙ্গে জুড়ে দিলেন তারানা। তৈরি হল কাবালি। তাই তাঁকে ‘কাবালির পিতা’ বলা হয় অনেকসময়। সংগীত বিষয়ে একটি বইও লিখেছিলেন তিনি – “ইজাজ-ই-খুস্‌রাভি”।

    একটা মত প্রচলিত আছে যে তিনি কাবালি থেকেই খেয়ালের জন্ম দেন। উস্তাদ আমীর খাঁ সাহেব তাঁকেই খেয়ালের সৃষ্টিকর্তা বলতেন।
    অন্যদিকে বাদশাহ মুহম্মদ শাহ রঙ্গিল ছিলেন নিয়ামত খাঁ (সদারঙ্গ) আর ফিরোজ খাঁ (অদারঙ্গ) – এই দুই ভাইয়ের ধ্রুপদের গুণগ্রাহী। এঁরাই ধ্রুপদ ভেঙ্গে খেয়াল তৈরি করেন – এটা হল আরেকটা মত।
    একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে – কয়েকশো বছর ধরে সদারঙ্গ আর অদারঙ্গের যেসব খেয়ালের বন্দিশ গাওয়া হয়ে আসছে – তার সঙ্গে কিন্তু কাবালির কোনও সংযোগ নেই। সংযোগ আছে ধ্রুপদের সঙ্গে। তাই কুমারপ্রসাদবাবু (ও আরও অনেকে) বলেছেন যে সদারঙ্গ ও অদারঙ্গের খেয়ালের ধারাটিই অব্যাহত রইল আর আমির খসরু খেয়াল গানের একটা ধারা শুরু করলেও সেটা ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
    ওদিকে আবার লখনৌতে গুলাম রসুল সাহেব খেয়ালের আরেকটা ধারার জন্ম দেন – যা পরে গোয়ালিয়রের ধারা হয়ে ওঠে। প্যারালাল ভাবে দুটো ধারা তৈরি হলেও গুলাম রসুলের ধারার সঙ্গে সদারঙ্গের ধারার পরে মিলমিশও হয়েছে।

    তবে খেয়াল নিয়ে নানা মত থাকলেও ভারত আর পাকিস্তানে গজল গানের সূচনা আমির খসরুই করেন সর্বপ্রথম। তবলা আর সেতারের উদ্ভাবক হিসেবেও তাঁর নাম আসে।

    ইমন —
    আমির খসরুর সৃষ্ট রাগগুলির মধ্যে অন্যতম ইমন। হিন্দুস্তানি (উত্তর ভারতীয়) সঙ্গীত পদ্ধতিতে কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত রাগ হল এই ইমন বা যমন। ইমনের স্বরগুলির মধ্যে মধ্যমটি তীব্র।
    ‘ইমন কল্যাণ’ কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা আরেকটি রাগ। ইমনের সঙ্গে এর তফাৎ হল ইমন কল্যাণে মধ্যমটি স্বাভাবিক।
    আবার দক্ষিণ ভারতে এই ইমনেরই সাংগীতিক কাঠামো নিয়ে খুব প্রচলিত ‘কল্যাণ’ রাগ।
    আমির খসরুর সঙ্গে সম্পর্ক ইমন রাগের। ইমন কল্যাণের নয়।

    বিষয়টা এমনই যে এক থেকে আরেক – এত কথা চলে এল! পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  5. Ishani says:

    বিষয়টি এটি বিস্তৃত যে শুরু করলে শেষ করা দুরূহ | আমি খুব সহজবোধ্যভাবে আমারই মতো কিছু “গান ভালোবাসে , কিন্তু ওই ভালোবাসাটাটুকুই বোঝে , আর কিছুই বোঝেও না, জানেও না …” এমন মানুষের (যদি তারা আদৌ থেকে থাকে ) কথা ভেবে এই লেখাটি গুটি তিনেক পর্বে ধরার চেষ্টা করেছি | এবং একেবারেই প্রাথমিক স্তরে | পরে হয়তো কখনো আরও পড়াশুনো করে আরও বিশদে লেখার প্রয়াস করব |

  6. শিবাংশু says:

    পড়ছি.. :-)

  7. Bhaskar Bose says:

    বাঃ!! চমৎকার প্রারম্ভ। আস্তে আস্তে এগিয়ে চলুক! ‘কান পেতে রই’ !

  8. Dipak Sengupta says:

    সুন্দর হচ্ছে। সঙ্গীতের মত এত বিস্তৃত বিষয় নিয়ে লিখলে সব উপাদান একটি রচনায় ধরে রাখা সম্ভব নয়। কোনটি প্রাধান্য পাবে সেটা অনেকাংশে নির্ভর করছে লেখকের মানসিকতা ও নিজস্ব অনুভূতির উপর। কেয়া মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্যটিও অনেক না-জানা তথ্যের সন্ধান দেবে। তবে মূল রচনার একেবারে শেষের পংক্তিতে সম্ভবতঃ টাইপের ভুলে ‘সহস্রার’ শব্দটি ‘সহসার’ হয়েছে, এটা ঠিক করে দেওয়াই ভাল।

  9. Anonymous says:

    সঙ্গীতের স্বর পরিচিতি আরও অনেক বিশদে প্রকাশ করলে ভালো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>