আমাদের দেখা গঙ্গোত্রী ও গোমুখ (৬)

আমাদের দেখা গঙ্গোত্রী ও গোমুখ (৬): গোমুখ – এখন পথের আশপাশ প্রায় সম্পূর্ণ ঊষর, আর সেই পথ থেকে ভাগীরথীর ধারা বেশ কিছুটা দূরে। তা হলেও জল-কল্লোলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ছোট মতো এক গিলা পাহাড় পার হলাম। বাঁ দিকের পাহাড় এখন বেশি উঁচু নয়। সেই পাহাড় আর আমাদের পথের মাঝে অনেক বোল্ডার। নদীর বিপরীত পারেও পাহাড়ের শ্রেণী। তা হলেও সেগুলোর মাথার উপর দিয়ে শিবলিঙ্গ দেখা যাচ্ছে (চিত্র-৩০)। তার সঙ্গে সময় সময় আমার অজানা আরও কয়েকটা তুষার শৃঙ্গ দেখতে পাচ্ছি। গঙ্গোত্রী থেকে আমরা শিবলিঙ্গের পূর্ব প্রান্ত দেখতে পাই তা একেবারে খাড়া দেয়াল। আর এই পথ থেকে এর দক্ষিণ প্রান্ত দেখি এবং এই দেয়াল কিছুটা হেলানো।
ড. শুভেন্দু প্রকাশ চক্রবর্তী

This entry was posted in Travel_stories. Bookmark the permalink.

6 Responses to আমাদের দেখা গঙ্গোত্রী ও গোমুখ (৬)

  1. Rahul Guha says:

    Excellent article. Very nice reading.

  2. Paromita Chatterjee says:

    খুব সুন্দর বর্ণনা। ভারতের এই উৎস আমাদের এক ঐতিহ্য। তবে আমরা আজকাল আর কজন যাই এই ঐতিহ্য মণ্ডিত স্থানে , ছুটি পেলেই ছোটে বিদেশ ভ্রমনে। রবী ন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে ইচ্ছা করে , ”দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু
    দেখি নাই কভু চক্ষু মেলিয়া ঘরের বাহিরে দুই পা ফেলিয়া
    একটি ঘাসের শিষের ওপর একটি শিশির বিন্দু।।
    এখন ঘরের বাইরে তো দূরের কথা বিদেশে ছুটি সৌন্দর্য আরোহনের জন্য। বিদেশ যাওয়া ভালো তবে আগে নিজের দেশকে জানতে হবে ভালো করে।দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আমাদের এই ভারতে আসেন উৎস সন্ধানে।
    সেদিক থেকে দেখতে গেলে রচনাটি খুবই সমৃদ্ধিশালী। এর সুন্দর বর্ণ্না আশাকরি দেশবাসীকে ওই স্থানে যাবার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।

  3. Ashis Bhattachajree says:

    We want to start for Gangutry. Please guide us.

  4. চমৎকার প্রাঞ্জল বর্ণনা। সঙ্গে একাধিক ছবি থাকায় বিষয়টি বুঝতে খুব সুবিধা হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

    আমি ১৯৮৪ সালে ভুজবাসা থেকে উপরের পাকদণ্ডী ধরে গোমুখ ছাড়িয়ে গঙ্গোত্রী গ্লেসিয়ারের উপরে পৌঁছাই এবং সেখান থেকে আড়াআড়ি এই গ্লেসিয়ার ক্রস করে তার অন্য পারের বোল্ডারে ভরা দেওয়াল ডিঙিয়ে ‘তপোবন’ নামক উপত্যকায় এসে হাজির হয়েছিলাম। হিমবাহ পার হবার সময়ে তার পিঠের উপর একাধিক বড় বড় ফাটল চোখে পড়েছিল এবং অনুমান করেছিলাম – ওই ফাটল থেকেই নিচের বরফ ও পাথরের ‘দেওয়ালে’ ধ্বস নাবতে পারে। বর্তমানে, ৩০১৭ সালে আমার এক বন্ধুর তোলা ছবিতে দেখলাম, সেই অনুমান বা আশঙ্কা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    ১৯৮৪ সালে ‘তপোবন’ নামক ablation valley-তে শিম্‌লাবাবা নামে এক সন্যাসী বাস করতেন। তাঁর মেদহীন শ্রীর, মাথায় জটা। নিজে থাকতেন একটি ছোট্ট তাঁবুতে আর তাঁর তাঁবুর পাশেই পাথরের তৈরি একটি কুটীর ছিল। আমার গাইড যোগেন্দ্র সিং রাওয়াৎ ও আমি, সেই কুটীরে, তাঁর আশ্রয়ে্‌ দিন দুই কাটিয়েছিলাম। শিম্‌লাবাবা-র কাছে একটা blower (হাপর) আর একাধিক pressure-cooker দেখেছিলাম। তিনি নিজে হাতে খিচুড়ি রেঁধে অতিথিদের খাওয়াতেন।

    আপনার লেখায় যে পাখিকে ‘ময়না’ নামে উল্লেখ করেছেন, তাদের ইংরাজি নাম Chough (চাফ্‌)। এদের তপোবন অঞ্চলেও দেখা যায়, এবং আরও উচ্চতায় এদের দেখা গেছে। এরা কাক পরিবারের সদস্য এবং scavenger – কাকদের মতোই। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, গাঢ়োয়ালী-রা এদের কাক বলেই জানে।

    ১৯৮৬ সালে আমরা ক’জনা বন্ধু যোগেন্দ্র সিং রাওয়ৎ-এর সঙ্গে গঙ্গোত্রী গ্লেসিয়ার-এর উপর দিয়ে ‘নন্দনবন’ নামক অপর একটি ablation valley-র উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম কিন্তু সেখানে পৌঁছতে পারি নি। তবে সেবারে এই হিমবাহের উপরে একাধিক glacial lake আর গঙ্গোত্রী ও চতুরঙ্গী হিমবাহের সঙ্গমস্তলের medial moraine দেখবার সৌভাগ্য হয়েছিল।

    ধন্যবাদ…

  5. চমৎকার প্রাঞ্জল বর্ণনা। সঙ্গে একাধিক ছবি থাকায় বিষয়টি বুঝতে খুব সুবিধা হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

    আমি ১৯৮৪ সালে ভুজবাসা থেকে উপরের পাকদণ্ডী ধরে গোমুখ ছাড়িয়ে গঙ্গোত্রী গ্লেসিয়ারের উপরে পৌঁছাই এবং সেখান থেকে আড়াআড়ি এই গ্লেসিয়ার ক্রস করে তার অন্য পারের বোল্ডারে ভরা দেওয়াল ডিঙিয়ে ‘তপোবন’ নামক উপত্যকায় এসে হাজির হয়েছিলাম। হিমবাহ পার হবার সময়ে তার পিঠের উপর একাধিক বড় বড় ফাটল চোখে পড়েছিল এবং অনুমান করেছিলাম – ওই ফাটল থেকেই নিচের বরফ ও পাথরের ‘দেওয়ালে’ ধ্বস নাবতে পারে। বর্তমানে, ৩০১৭ সালে আমার এক বন্ধুর তোলা ছবিতে দেখলাম, সেই অনুমান বা আশঙ্কা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    ১৯৮৪ সালে ‘তপোবন’ নামক ablation valley-তে শিম্‌লাবাবা নামে এক সন্যাসী বাস করতেন। তাঁর মেদহীন শরীর, মাথায় জটা। নিজে থাকতেন একটি ছোট্ট তাঁবুতে আর তাঁর তাঁবুর পাশেই পাথরের তৈরি একটি কুটীর ছিল। আমার গাইড যোগেন্দ্র সিং রাওয়াৎ ও আমি, সেই কুটীরে, তাঁর আশ্রয়ে্‌ দিন দুই কাটিয়েছিলাম। শিম্‌লাবাবা-র কাছে একটা blower (হাপর) আর একাধিক pressure-cooker দেখেছিলাম। তিনি নিজে হাতে খিচুড়ি রেঁধে অতিথিদের খাওয়াতেন।

    আপনার লেখায় যে পাখিকে ‘ময়না’ নামে উল্লেখ করেছেন, তাদের ইংরাজি নাম Chough (চাফ্‌)। এদের তপোবন অঞ্চলেও দেখা যায়, এবং আরও উচ্চতায় এদের দেখা গেছে। এরা কাক পরিবারের সদস্য এবং scavenger – কাকদের মতোই। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, গাঢ়োয়ালী-রা এদের কাক বলেই জানে।

    ১৯৮৬ সালে আমরা ক’জনা বন্ধু যোগেন্দ্র সিং রাওয়ৎ-এর সঙ্গে গঙ্গোত্রী গ্লেসিয়ার-এর উপর দিয়ে ‘নন্দনবন’ নামক অপর একটি ablation valley-র উদ্দেশে বেরিয়েছিলাম কিন্তু সেখানে পৌঁছতে পারি নি। তবে সেবারে এই হিমবাহের উপরে একাধিক glacial lake আর গঙ্গোত্রী ও চতুরঙ্গী হিমবাহের সঙ্গমস্তলের medial moraine দেখবার সৌভাগ্য হয়েছিল।

    ধন্যবাদ…

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>