যাঁদের আমি ছাত্র

যাঁদের আমি ছাত্র – … আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি, তখন যতীনবাবু আমাদের পড়াতে আসেন। আমরা ভাইবোনেরা ছিলাম এরকম – একজন ২য় শ্রেণী, ২জন চতুর্থ শ্রেণী আর একজন ষষ্ঠ শ্রেণী। প্রত্যেকের বিভিন্ন রকম স্তর আর এটা ঠিক ছিল উনি পড়াবেন বেশ কটি বিষয় …
ভাস্কর বসু

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

26 Responses to যাঁদের আমি ছাত্র

  1. Ramkrishna Bhattacharya says:

    একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম । বিশেষ করে – টি এই টা র প্রয়োগ

    উষ্ণীশ বিয়োজন

    • Bhaskar Bose says:

      ধন্যবাদ দাদা! এইরকম আরো অনেক কিছু ছিল যেগুলো স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। সেই সময় সত্যি শিক্ষকদের একটা আলাদা সামাজিক মর্যাদা ছিল এবং তাঁরাও অন্যরকম ছিলেন।

  2. ঋজু গাঙ্গুলি says:

    সত্যিই রূপকথার সন্ধান পেলাম ভাস্করদা| আমাদের কপালে অবশ্য এমন সব শিক্ষক জোটেনি, তবে শিক্ষা পাওয়া এখনও চলছে (বস, বউ, হালে মেয়ের কাছ থেকে), আর চলতেই থাকবে|

    • Bhaskar Bose says:

      সত্য ই ভাগ্যবান ছিলাম, আমি আমাদের প্রজন্মের ছেলে মেয়ে রা। তবে শেখার শেষ নেই। এখনো শিখে চলেছি। আরো দশজন এর কথা লিখব। তাঁদের মধ্যে থাকবেন দুজন এখনকার শিক্ষক ও!! সঙ্গে থেক।

  3. Anonymous says:

    আরো পড়তে ইচ্ছে করছে ভাস্করদা…পড়তে পড়তে নিজের প্রিয় শিক্ষকদের নিয়ে লিখতেও খুব ইচ্ছে করছে …আর একটা চিন্তাও হচ্ছে, আমার হাত ধরে বড়ো হচ্ছে যারা,তাদের একজনেরও মনের মধ্যে এভাবে দাগ কাটতে পারছি তো…

  4. shyamali says:

    খুব ভাল লেখা ভাস্কর দা।

  5. ভাস্কর চক্রবর্তী says:

    বেশ সুন্দর লাগল পড়ে লেখাটা । ছাত্র জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত খুবই মধুর, নানা স্মৃতি দিয়ে ঘেরা । বড় মধুর সেই সব স্মৃতি । আর সব থেকে বড় জিনিস সেটা হল শিক্ষক দের পড়ানোর ও বোঝানোর পদ্ধতি । তাদের সেই সব ছোট ছোট পাঠগুলো যা সেই সময় খুবই বিরক্তিকর হত, পরবর্তী জীবনে নানা সময়ে সেগুলো আমাদের সহায় হয়ে যায় । তারা আমদের পাশে পাশে চলতে থাকে ।

  6. PROLAY CHAKRABORTY says:

    Thanks, very much inspired by your writing….. feel very nostalgic …… remembering the experiences with Shyamal babu, MC1, Harishankarbabu and others.

    • Bhaskar Bose says:

      সত্যিই! আমি তো লিখেছি এই অনুপাতে ভালো শিক্ষক আমি অন্য কোন জায়গাতে পাইনি!

  7. Ishani Roychaudhuri says:

    উফ , এই তো জমে গেছে ! চালিয়ে যা | একটু বেশি বেশি করে লেখ | অল্প গল্পে কি মন ভরে ?

    • Bhaskar Bose says:

      দেখ, বেশী লিখতে গেলে যদি ক্লান্তিকর হয়!! ভয় লাগে।

  8. sombuddha ghosh says:

    Onek dhnnobad apnak, ei rokom lekhar jonno. Amio 1995-2003 te school er student chilam. Amio LAMBA MIHIR BABUR class korechi. Unar bojhanoi alada chilo. Amra MC1 R MC2 boltam 2jon k.

    Ami r ek jonner naam korbo. SRI SHYAMAL KISHORE BHATTACHARJEE. Onar moto kauk paini.

    • Bhaskar Bose says:

      হ্যাঁ!! MC1 & MC2 – নামই ছিল। কিন্তু আমাদের ছাত্রদের কাছে ওনারা অন্য নামে পরিচিত ছিলেন!! দৈহিক আকৃতির দ্বারা!

  9. Anonymous says:

    ভাস্কর, অসাধারণ লাগলো, কত সুখস্মৃতি মনের গভীরে ভেসে উঠল।ভারি আনন্দ পেলাম।আরও অনেক এরকম ভাল ভাল লেখা পড়ার আশায় রইলাম।

  10. Aniruddha Ganguly says:

    বিষয় নির্বাচন অভিনব । শিক্ষকদের বিষয়বস্তু করে এমন মনোগ্রাহী রচনা অন্তত আমার খুব নজরে আসেনি । বলতে গেলে এ একরকম গুরুদক্ষিনা । প্রাঞ্জল ভাষা-বিস্তার আর অত্যন্ত আকর্ষণীয় রচনাভঙ্গী । ওঁদের অনেক আশীর্বাদ নিশ্চয় ভাস্করের প্রতি বহমান হবে, আর আমাদের সাধুবাদ । প্রগাঢ় নস্টালজিয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে বয়স অনেকটাই হোলো ।

    • Bhaskar Bose says:

      অনেক ধন্যবাদ!! লেখার উদ্দেশ্য অনেকাংশে সফল! আরো লিখতে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।

  11. Bijesh saha. says:

    Darun.

  12. সই says:

    ভাস্করদা, সবে পড়তে শুরু করলাম। ভালো লাগছে বেশ… পরের গুলো পড়ব একে একে :)

    • Bhaskar Bose says:

      নিশ্চয়ই! পড়ে নির্দ্বিধায় মতামত জানিও!!

  13. Sakrajit Ghosh says:

    সুললিত ভাষায় অনিন্দ্য পরিবেশন।যোতিনবাবুর কথায় আমার মনে পড়ল নিজের গুরুগিরির কথা। গুরুগিরিতে আমার হাতেখড়ি ১৯৬৩ সালে। তখনও আমি উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। কলেজে উঠে আমি রীতিমত পাকা গৃহশিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তখন নিজের পাড়াতেই এক বাড়িতে একটি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রকে পড়বার দায়িত্ব পাই। বেতনের কথা মনে নেই। কিন্তু দু-তিনটি বিষয় কোনোদিনই ভোলা সম্ভব নয়।
    সালটা সম্ভবত ১৯৬৮/৬৯। বেতনের কথা মনে নেই। কত আর হবে! ত্রিশ কি চল্লিশ টাকা! প্রথম দিনই পড়ানো শুরু করতেই ছাত্রের মা এসে কিশোরী কন্যটিকে আর একটি চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বলে গেলেন, “মাস্টারবাবু,মেয়েটাকে একটু পড়া দেখিয়ে দেবেন।” প্রথমদিনই একটা মৃদু ঝাকুনি খেলাম। কিন্তু কিছু না বলে অতিবাধ্য ছেলের মতো ঘাড় কত করে তা শিরোধার্য করলাম। মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। কদিনের মধ্যেই সে হয়ে উঠলো আমার পুরোদস্তুর ছাত্রী। ব্যাপারটা উভয়পক্ষেই বেশ গা-সওয়া হয়ে যেতে আবির্ভাব আরও দুটি গোবেচারা বাচ্চার। ওদের দুই জমজ ভাই। দুজনেই চতুর্থশ্রেণীর ছাত্র। গৃহকর্ত্রী জানালেন, “মাস্টারবাবু, ওদের পড়াতে হবে না। ওরা শুধু আপনার সামনে বসে নিজেরাই পড়বে। বড় দুষ্টু। এখানে একটু বই নিয়ে বসবে।” বাইরে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আমি একটু ঢোক গিলে তাদেরকেও স্বীকার করে নিলাম। যথাসময়ে ওরাও আমার ছাত্র হয়ে উঠল। অর্থাৎ, ওই একই বেতনে আমার চারটি ছাত্র হলো। তখন ত্রিশ টাকা এক মাসের হাতখরচ হিসেবে যথেষ্টই। সরকারি কলেজের ১৯ টাকা ফি বাবাই দিতেন, সঙ্গে যাতায়াত ভাড়াটাও। ভাড়া নামমাত্র। শ্যামবাজার পর্যন্ত ১৫ পয়সা আর সেখান থেকে হেদুয়া পর্যন্ত ৭ পয়সা। তাও এক স্টপ হেঁটে গিয়ে উঠলে ১০ পয়সাতেই শ্যামবাজার পৌঁছনো যেত। হোক, সন্ধেবেলা কলেজ থেকে ফিরে সোজা চলে যেতাম পড়াতে। তখন সপ্তাহে ৬ দিনই পড়ানোর রেওয়াজ ছিল এবং সমস্ত বিষয়। তখনও বিশেষায়ণের যুগ আসেনি। যখন এলো তখন ভাষা, বিজ্ঞান ও কলাবিষয় আলাদা আলাদা শিক্ষকের কাছে পড়তে হতো। আরও পরে যখন অতিবিশেষায়ণ হলো, তখন গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের আলাদা আলাদা শিক্ষকের প্রয়োজন দেখা দিল।

  14. Sakrajit Ghosh says:

    সুললিত ভাষায় অনিন্দ্য পরিবেশন।যতীনবাবুর কথায় আমার মনে পড়ল নিজের গুরুগিরির কথা। গুরুগিরিতে আমার হাতেখড়ি ১৯৬৩ সালে। তখনও আমি স্কুলের ছাত্র। কলেজে উঠে আমি রীতিমত পাকা গৃহশিক্ষক হিসেবে পরিচিত হলাম। তখন নিজের পাড়াতেই এক বাড়িতে একটি অষ্টম শ্রেণীর একটি ছাত্রকে পড়বার দায়িত্ব পাই। বেতনের কথা মনে নেই। কিন্তু দু-তিনটি কথা কোনোদিনই ভোলা সম্ভব নয়।
    সালটা সম্ভবত ১৯৬৮/৬৯। বেতনের কথা মনে নেই। কত আর হবে! ত্রিশ কি চল্লিশ টাকা! প্রথম দিন পড়ানো শুরু করতেই ছাত্রের মা এসে কিশোরী কন্যটিকে আরেকটি চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বলে গেলেন, “মাস্টারবাবু, মেয়েটাকে একটু পড়া দেখিয়ে দেবেন।” প্রথমদিনই একটা মৃদু ঝাকুনি খেলাম। কিন্তু কিছু না বলে অতিবাধ্য ছেলের মতো ঘাড় কত করে তা শিরোধার্য করলাম। মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। কদিনের মধ্যেই সে হয়ে উঠলো আমার পুরোদস্তুর ছাত্রী। ব্যাপারটা উভয়পক্ষেই বেশ গা-সওয়া হয়ে যেতেই আবির্ভাব ঘটলো আরও দুটি গোবেচারা বাচ্চার, ওদের দুই জমজ ভাই। দুজনেই চতুর্থশ্রেণীর ছাত্র। গৃহকর্ত্রী জানালেন, “মাস্টারবাবু, ওদের পড়াতে হবে না। ওরা শুধু আপনার সামনে বই নিয়ে বসে থাকবে।” বাইরে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আমি একটু ঢোক গিলে তাদেরকেও স্বীকার করে নিলাম। যথাসময়ে ওরাও আমার ছাত্র হয়ে উঠল। অর্থাৎ, ওই একই বেতনে আমার চারটি ছাত্র হলো। তখন ত্রিশ টাকা এক মাসের হাতখরচ হিসেবে যথেষ্টই। সরকারি কলেজের ১৯ টাকা ফি বাবাই দিতেন, সঙ্গে যাতায়াত ভাড়াটাও। ভাড়া নামমাত্র। শ্যামবাজার পর্যন্ত ১৫ পয়সা আর সেখান থেকে হেদুয়া পর্যন্ত ৭ পয়সা। তাও এক স্টপ হেঁটে গিয়ে উঠলে ১০ পয়সাতেই শ্যামবাজার পৌঁছনো যেত। যাই হোক, সন্ধেবেলা কলেজ থেকে ফিরে সোজা চলে যেতাম পড়াতে। তখন সপ্তাহে ৬ দিনই পড়ানোর রেওয়াজ ছিল এবং সমস্ত বিষয়। তখনও বিশেষায়ণের যুগ আসেনি। যখন এলো তখন ভাষা, বিজ্ঞান ও কলাবিষয় আলাদা আলাদা শিক্ষকের কাছে পড়তে হতো। আরও পরে যখন অতিবিশেষায়ণ হলো, তখন গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের জন্যেও আলাদা আলাদা শিক্ষকের প্রয়োজন দেখা দিল। যাক, প্রসঙ্গে ফিরি। কলেজ থেকে বাড়ির স্টপে নেমে সোজা চলে যেতাম ছাত্রবাড়ি। আমাকে ওঁরা যেমন চুক্তির বাইরে তিনটি ছাত্র-ছাত্রী অতিরিক্ত গছিয়ে দিয়েছিলেন, তেমনি চুক্তির বাইরে রোজই কিছু গরম-গরম জলখাবার দিতেন। সাধারণ ঘরোয়া খাবার। কিন্তু তাতে স্নেহ, শ্রদ্ধা, আন্তরিকতার স্পর্শ থাকত। আমি কোনোকালে ঘড়ি দেখে পড়াতাম না। তার উপর সব মিলিয়ে চারজনকে পড়ানো। প্রায়ই অনেক দেরি হতো বাড়ি ফিরতে।
    একদিনের কথা বলি। তখন আমি প্রায় ঘরের ছেলে হয়ে গেছি। বেশ কিছুক্ষণ পড়া বোঝানোর পর সবাইকে কিছু কিছু কাজ দিয়ে কোমরটাকে একটু বিশ্রাম দিতে ওদের খাটে বসে পা মাটিতে রেখেই চিৎ হয়ে শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিলাম। খুবই ক্লান্ত ছিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছে জানি না। ওরাই ডেকেছিল, না নিজেই জেগে উঠেছিলাম মনে নেই। কিন্তু যখন উঠলাম, তখন রাত দশটা। খুব লজ্জিত হয়ে বাড়ি ফিরলাম। আজও মনে পড়লে ভাবি তখন মানুষের মধ্যে কত স্নেহ-ভালোবাসা আর আন্তরিকতা ছিল। শেষ করার শুধু আর একটি কথা বলি। আমার উপর যেমন একটি ছাত্রের কথা বলে চারটি ছাত্র-ছাত্রীর দায় চাপিয়েছিলেন ওঁরা তেমনি আমার মতুয়া-বুদ্ধিহীন ব্যবহারে তুষ্ট হয়ে পুজোয় একটি জামা উপহার দিয়ে আমাকে যুগপৎ বিস্মিত ও উৎফুল্ল করেছিলেন। মানুষের সাথে মানুষের আত্মীয়তাবোধের এ এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>