আলোছায়াময়

আলোছায়াময় - আমার ছেলেবেলায় মায়াময় দিনগুলোর একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল রেডিয়ো। শুক্র, শনি আর রোববারে বাড়ির সবাই মিলে নাটক শোনা- এই হারিয়ে যাওয়া ছবিটার জন্যে আজও ভারি মন কেমন! না, কিছুই দৃশ্যমান নয়। সবটাই শ্রাব্য। শুধু কন্ঠ দিয়ে আর আশ্চর্য স্বরক্ষেপণে অজানা, অদেখা কিছু মানুষ গল্পের এক একটা চরিত্র হয়ে উঠে সুখ-দুঃখ, …
কেয়া মুখোপাধ্যায়

This entry was posted in Opinion and Discussion. Bookmark the permalink.

13 Responses to আলোছায়াময়

  1. Ishani Roychaudhuri says:

    আমিও কেয়া , ওই ‘৪২ দেখেছি স্বাধীনতার অনেক অনেক পরে | তারপর একে একে তোমার উল্লেখ করা অন্য ছায়াছবিগুলো | আমার চোখে তিনি ছিলেন ” দুষ্টু লোক ” -এর প্রথম আর শেষ সংজ্ঞা | কিন্তু তাঁকে প্রথম খুব ভালোবেসে ফেলেছিলাম ” ছদ্মবেশী” -র পর | “দুষ্টু” লোক কেমন এক নিমেষে খুব “কাছের মানুষ” হয়ে গেলেন !

    • Keya Mukhopadhyay says:

      ঠিকই, ‘ছদ্মবেশী’ আর ‘ছেলে কার’ (টমেটোর বাবা) দেখে ধারণা বদলেছিল। কিন্তু কদিন আগে আবার ‘৪২ দেখতে বসে রাগ হল খুব! সেখানেই একজন সু-অভিনেতার কৃতিত্ব।
      খুব কাজের চাপ থাকলে মন ভাল করার জন্যে আমি ছদ্মবেশী দেখি। :)

  2. Sasankasekhar Lahiri says:

    ছোট বেলায় দেখতাম শীতের দুপুরে উঠোনে পাটি পেতে আমার মা ও পাড়ার জেঠিমা, কাকিমারা সবাই রেডিও তে নাটক শুনছেন। পরে যখন দুরদর্শন এলো তখন শনিবার বাংলা সিনেমা দেখাত। লোকটির গলার স্বরটি অন্য দের থেকে আলাদা তাই ভালই লাগত অভিনয় দেখতে। মায়েদের কাছে শুনতাম ওনার অভিনয় ক্ষমতা। বলতে দ্বিধা নেই আজ ওনাকে আমার মায়েরা উত্তম কুমারের চেয়েও বড় অভিনেতা হিসাবে মানতেন।

    • Keya Mukhopadhyay says:

      ভাল লাগল আপনার সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ। ধন্যবাদ।

  3. Sekhar Basu says:

    খুব সুন্দর লেখা । গভীর অনুভব এবং বিশ্লেষণ একসঙ্গে মিশেছে ।

  4. Bimal Konar says:

    বিকাশ রায় মানেই আমার চোখের সামনে ভেসেওঠে স্যুট বুট টাই হ্যাট পরিহিত এক ছিপছিপে, সুঠাম ভিলেন? হ্যাঁ আমার কালেজ জীবনে ওনার সিনেমা গুলোতে এক কেতাদুরস্ত ভিলেন’র ছাপই পেতাম। আর বরধমানে’র গ্রামে, পেটরো মাক্স’র আলোয় আমার জীবনের প্রথম য়াত্রাভিনয় ” ঘুমন্ত পৃথিবী” পালায় বিপিন বোস নামক চরিত্রে , মঞ্চে বিকাশ রায় হয়ে ওঠার প্রাণপাত চেষ্টা এবং অবশেষে মুখের চুরুট” না মুখে না আঙ্গুলে” , শুধু ধুম্রায়িত কাশি সহ প্রস্থান …………………… এই যে এত গভীর স্মৃতি সাগরে কেয়া-সতীনাথ মুখোপাধ্যায় জুটি আমাকে ডুবাইল ভাসাইলো রে, এইজন্য স্বরসতী’র বর পুত্র ও স্বরসতী’র বর কন্যা সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবং কেয়া মুখো পাধ্যায় কে আমার শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ভালবাসা জানাই।

    আপনাদের গুণমুগ্ধ
    বিমল কোনার

    • Keya Mukhopadhyay says:

      বিমলদা,
      গ্রামে পেট্রোম্যাক্সের আলোয় যাত্রা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। যাত্রা দেখেছি মহাজাতি সদনে। তাতে যাত্রার ওই আমেজটাই অনুপস্থিত! আপনার গ্রামের মঞ্চে বিকাশ রায় হয়ে ওঠার এই টুকরো স্মৃতিচারণ যেন সেই আমেজের ছোঁয়া এনে দিল!
      লেখাগুলি পড়েছেন জেনে খুব আনন্দ পেলাম।

  5. Bhaskar Bose says:

    কেয়া,
    খুব ভালো হয়েছে লেখাটা। মর্মস্পর্শী অথচ তথ্যসমৃদ্ধ অথচ তথ্যভারাক্রান্ত নয়।

    লক্ষ করে দেখবে বিকাশ রায় আর উৎপল দত্তর অভিনয়ের তুলনা চলেই আসে। এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ছে আমার এক বয়স্ক দাদার মন্তব্য। “দত্তা” সিনেমাতে (অজয় করের, সুচিত্রা-সৌমিত্র) তে রাসবিহারী করেছিলেন উৎপল দত্ত। দাদার একদম ভালোলাগেনি, বলেছিলেন, – এটা একেবারে বিকাশ রায়ের জন্য বাঁধা ছিল। উনি একেবারে এই চরিত্রের মর্মস্থলে পৌঁছে যেতেন।
    সকলের মত “১৯৪২- এ হেট স্টোরী” – দিয়ে আমার ও বিকাশ রায়কে হলে বসে প্রথম দেখা। তোমার দেখাতে আবার সবকিছু মনে পড়ে গেল, আরো মনে পড়ে গেল কি অসামান্য ক্রুদ্ধতার সঙ্গে মঞ্জু দে কে আক্রমণ করার দৃশ্যটি – মুখভঙ্গী এবং সর্বশরীর দিয়ে অভিনয় করার শিক্ষা রূপে এই চলচ্রিত্র গুলি বারবার দেখা আজকের প্রজন্মের আশু কর্তব্য।
    আরো একট সিনেমা মনে পড়ছে – “শেষ অংক” !! বিদেশী ছায়াছবি অনুপ্রাণিত ছবিটিতে ডিকেটিভের ভূমিকাতে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু প্রথমে ভাবা হয় যে উনি নায়ককে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছেন। দুই ভূমিকাতে ওনার চরিত্রচিত্রণে অদ্ভুত তফাৎ লক্ষ করা যায়।

  6. উত্তর ফাল্গুনীর উৎপল দত্ত…

    • Keya Mukhopadhyay says:

      উত্তর ফাল্গুনী-তে কালীপদ চক্রবর্তীর অভিনয় বলছ কি?

  7. কিন্তু বিকাশ রায় বলতে মশাই ছাড়া যে কিছুতেই এগোন যায় না! :)

  8. ‘৪২ ছোটোবেলায় দেখেছিলাম, বিকাশ রায় কে চিনতাম না, নাম জানতাম শুধু নাটক শোনার দৌলতে, তাই ওই ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারকে সতি্য ভেবেই রাগ ও ভয়ে মনে মনে কেঁপে উঠেছিলাম বৃটিশ অত্যাচারের প্রতি। পরে যখন ওনাকে চিনলাম তখনও শুধু খলনায়ক কিংবা দুশ্চরিত্র স্বামী– দেখলেই রাগ হত।
    কিন্তু ছদ্মবেশী ধারনাই পাল্টে দিল। আর সেই টমেটোর সঙ্গে পার্কে কথোপকথন—” ছেলে কার” এখনও একবার দেখতে বসলে শেষ করেই উঠি!
    বিকাশ রায়-এর ছবির গল্প শেষ হবে না! শুধু সঠিক মূল্যায়ণ পেলেন না– দু:খ সেটাই।
    শ্রদ্ধা জানাই শতবর্ষে একাধারে অভিনেতা, পরিচালক ও নাট্যকার শ্রী বিকাশ রায়কে!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>