শরদিন্দুর ব্যোমকেশ

শরদিন্দুর ব্যোমকেশ – গোয়েন্দা গল্প পড়া আমার নেশা, যার ফলে আমি এখন law of diminishing return-এর চক্রে পড়েছি। নতুন গল্প পড়তে পড়তে মাঝে মধ্যে তাতে পুরনো গল্পের ছায়া দেখি, ফলে আগের মত গল্প পড়ে সেরকম…
সুজন দাশগুপ্ত

This entry was posted in literature, Opinion and Discussion. Bookmark the permalink.

23 Responses to শরদিন্দুর ব্যোমকেশ

  1. Ishani Roychaudhuri says:

    খুব ভালো লাগল | অনুরাগী পাঠকদের দাবীতে ব্যোমকেশ ফিরে এসেছিল | একেনবাবু পাঠকদের তেমন ভালোবাসেন না কেন কে জানে ! বাসলে হয়ত একটু ঘন ঘন দর্শন দিতেন !

  2. সুজন দাশগুপ্ত says:

    ধন্যবাদ ঈশানী। সমস্যা তো একেনবাবুকে নিয়ে নয়, তার কাহিনীকারকে নিয়ে!

  3. Sumit Roy says:

    “সত্যদ্রষ্টা” সুমিত রায়ও ওই কথাই বলেছেন : “দুঃখের কথা এই যে একেনবাবুর যশ আর সেই সঙ্গে কীর্তির সংখ্যা যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাঁর বসওয়েলের উৎসাহ সেই অনুপাতে বাড়ছে না।” :-) বসওয়েল তো এখানে দিব্যি কলম চালিয়েছেন দেখছি– তথ্য আছে, আলোচনা আছে, সিদ্ধান্ত আছে আর আছে প্রসাদগুণ, শরদিন্দুর লেখার মতোই, পড়লেই ফূর্তি হয়। আর কী চাই?

  4. Nina Gangulee says:

    Sujanda

    aasole ki jaano –Patnar jol kheyechhilen to Sharadindu tai emon kaali kolome

    eto sundar ki kore lekho — amke please ektu shikhiye debe?

    Abosor moton Abosore asa borhoi monograhee!

  5. সুজন দাশগুপ্ত says:

    “সত্যদ্রষ্টা” সুমিত রায় ও নীনাকে ধন্যবাদ।

  6. দিলীপ দাস says:

    সুজনদা, ব্যোমকেশকে নিয়ে আপনার এই লেখাটি অসামান্য। আমি ব্যোমকেশের আর একটি দিকের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই। শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় আইন পাশ করেছিলেন তাই তাঁর আইন জ্ঞান প্রায় প্রতিটি ব্যোমকেশের গল্পে ফুটে উঠেছে। যেখানে প্রাপ্ত প্রমাণের দ্বারা অপরাধীকে চরম সাজা বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানেই হয় তিনি অপরাধীরকে আত্মহত্যা করিয়েছেন বা ছেড়ে দিয়েছেন। ‘পথের কাঁটা’-তে প্রফুল্ল রায় যে অন্য খুন গুলো করেছে তা আদালতে প্রমাণ করা খুব শক্ত ছিল। ‘সত্যান্বেষী’-তে ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে সত্যান্বেষী ব্যোমকেশকে খুনের চেষ্টা আর মাদক রাখার অভিযোগে (বাকী খুনগুলোর সাথে তাকে জড়ানো যায় নি) যেজন্য তার খুব বেশী বছরের সাজা হয় নি ও সে জেল থেকে বেরিয়ে দেশলাই চুরি করেছে। ‘চোরাবালি’-তেও নায়েবের বিরূদ্ধে অপরাধের প্রমাণ ছিল না, তাই তাকে মরতে হয়েছে শব্দভেদী গুলিতে ও হিমাংশুর বিরূদ্ধে involuntary manslaughter –এর অভিযোগ লেখক সযত্নে চাপা দিয়েছেন। দুর্গরহস্যে রমাপতিই যে বাকী খুনগুলো করেছিল তার প্রমাণ নেই, তাই সে আত্মহত্যা করেছে আর ‘আদিম রিপু’-তে কালো টাকা সরকারী কোষে ফেরত দেওয়ার আইনি ঝকমারি বাঁচাতে সেগুলির আহুতি দেওয়া। ‘অর্থমনর্থম’-এ ফণিভূষণের সুইসাইড নোটে স্পষ্ট লেখা যে ‘আমি জানি মোকদ্দমা করে আপনারা আমার ফাঁসী দিতে পারিতেন না’। খুব সত্যি কথা। ‘খুঁজি খুঁজি নারি’’ আর ‘বেণীসংহারে’ উইলের আইনের জ্ঞান – এই সমস্তই আমাদের আইন পাশ করা শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়কে দেখিয়ে দেয়।

    • Keya Mukhopadhyay says:

      গল্পগুলো ধরে ধরে শরদিন্দুর আইনজ্ঞানের চমৎকার বিশ্লেষণ দিলীপদা! খুব ভাল লাগল।

    • সুজন দাশগুপ্ত says:

      দিলীপ, চমৎকার একটা দিক তুমি তুলে ধরেছো…আমি এটা খেয়াল করি নি।

    • Pallab Chatterjee says:

      সত্যিই অসাধারণ পর্যবেক্ষণ দিলীপবাবু, খুব কম লোকেই এ ব্যাপারে ভেবেছে। যদিও সত্যসন্ধান সম্পন্ন হবার পর আসামীর শাস্তিদানের কোনো দায়িত্ব সত্যান্বেষী হিসেবে ব্যোমকেশের নেওয়ার কথা নয়, শুধু মানবতার দোহাইয়ে গুরুতর অপরাধীদের তিনি আইনের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন বা ছেড়ে দিয়েছেন এরকম ঘটনার অভাব নেই।

    • অভিমন্যু মজুমদার says:

      অসম্ভব একটা ভালো দিক আপনি তুলে ধরেছেন।

  7. Keya Mukhopadhyay says:

    খুব ভালো লাগল!
    “দুঃখের কথা এই যে একেনবাবুর যশ আর সেই সঙ্গে কীর্তির সংখ্যা যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাঁর বসওয়েলের উৎসাহ সেই অনুপাতে বাড়ছে না।” সুমিত রায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত। একেনবাবুর পুনরাবির্ভাবের অপেক্ষায় রইলাম।

    • সুজন দাশগুপ্ত says:

      কলম না ধরে আর উপায় কি…এতজনের আক্রমণ!

      • দিলীপ দাস says:

        যাক, এটা একটা ভালো খবর, ‘একেনবাবুর প্রত্যাবর্তন’।

  8. Sumit Roy says:

    মৌলিক গবেষণার জন্য দিলীপকে পাঁচে পাঁচ দেওয়া হলো :-)

    • দিলীপ দাস says:

      আপনার মতো গুণী মানুষের কাছে ১০০% নম্বর পেয়ে আমি বেজায় খুশী।

      • Bhaskar Bose says:

        দিলীপ,
        তুমি ভাগ্যবান!! পুরো সংখ্যাটা কিন্তু অত নম্বর পায়নি!! :) :D

  9. Bhaskar Bose says:

    দিলীপ, সুজনদা, সুমিতবাবু,

    আইন প্রসঙ্গে একটা মজার ব্যাপার মনে পড়ে গেল। এটি হিমানীশ গোস্বামীর লেখায় পড়েছি। উনি একটি খুঁত বার করেছিলেন ‘অর্থমনর্থম’ এবং ‘খুজি খুজি নারি’ র মধ্যে।
    ‘অর্থমনর্থম’ এ আমরা দেখি উওইল স্বহস্তে লিখিত হলেও তাতে সাক্ষীর সই না থাকার ফলে ব্যোমকেশ ফনিভূষণ কে বলে – ” সে আইন জানত না” !!
    কিন্তু ‘খুজি খজি নারীতে’ দেখি ব্যোমকেশ বলে ‘উইল নিজের হাতে লিখলে তাতে আর সাক্ষীর দরকার থাকেনা। ছোটবেলাতে আমার মাথায় এই প্রশ্ন এসেছিল কিন্তু সাহস হয়নি, কিন্তু হিমানীশ এর লেখা পড়ে সন্দেহটা আরো বাড়ে। মনে রাখতে হবে হিমানীশ কিন্তু ‘পরিমল গোস্বামীর বাড়ির ছেলেমেয়েদের একজন’ যাদের পিড়াপিড়ীতে ব্যোমকেশ আবার শুরু হয়।
    এই ব্যাপারে কেউ আলোকপাত করলে ভালো হয়।

    • দিলীপ দাস says:

      ভাস্কর, খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন এনেছ। আমার মতে ব্যাপারটা দুভাবে দেখা যায়। এক – উইল কেমন ভাবে লেখা হয়েছে, দুই – আদালতে contested হলে উইল টিকবে কি না।
      প্রথমত – ‘অর্থমনর্থম’-এর উইল কিভাবে লেখা হয়েছিল জানা নেই (বইয়ে লেখা ‘ছাপার অক্ষরে’ তার মানে কি টাইপ করা?) কিন্তু উইলে সাক্ষীর সই-এর জায়গা ছিল এবং ফণীর উইলে সে জায়গা খালি ছিল। ‘খুঁজি খুঁজি নারি’-তে উইল রামেশ্বরবাবু নিজে হাতে লেখা এবং তাতে স্পষ্ট লেখা যে অবস্থাগতিকে সাক্ষী জোগাড় করতে পারেন নি, কিন্তু তিনি স্থির মস্তিষ্কে উইল লিখেছেন ও নিজে সই করেছেন।
      দ্বিতীয়ত – এই অবস্থায় উইল সাধারণত প্রোবেট কোর্টে যায়। খেয়াল করে দেখো অর্থমনর্থম-এ সুকুমারকে প্রোবেটে গিয়ে সম্পত্তির অধিকার পেতে হয়েছে। সেখানে যে উইল contested হয় নি সেটা লেখক না বললেও আমরা বুঝতে পারছি। আর ‘খুঁজি খুঁজি নারি’-তে লেখক নিজেই প্রশ্ন করছেন এই উইল আদালতে মঞ্জুর হবে কিনা এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর সাথে সাথে বলছেন বিবাদী পক্ষ contest করতে সাহস পাবে না আর contest করলেও ডাক্তার সেন ও পুলিশ সাক্ষী দেবেন। খুব সম্ববত এই দুজন নামকরা লোকের সাক্ষী আদালতে গুরুত্ব পাবে।
      আমি আইনজ্ঞ নই (সেটা তোমার থেকে ভালো আর কে জানবে) – তবে আমার মতে লেখক এই দুই জায়গাতেই কোনো ভুল করেন নি। তোমার কি মনে হয়?

      • Bhaskar Bose says:

        ঠিক বলেছ। হতেই পারে। কোন একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যায়।
        আর একটা কাজ করতে পারি, Social media তেও জিজ্ঞেস করতে পারি।

  10. Palak kanti maitra says:

    Sujon,
    Tomar lekha pore amar ar Aparajitar khub bhalo legeche.Aparajitar lekha ta ami Sumit babur lekhar commente lagiechi.Sombhob hole pore dekho ar tomar motamot janio.Byomkeh amader khub i ekjon priyo choritro,ebong choto thekei porichito.Ar ekhon to Tvr pordai Byomkesher sob galpoi chitraito hochhey.Tomar goendakahinite interest ar already besh kichu boi likhe phelecho.Tomar ei bangla bhashar anurag amader mughdho kore.Aro asha roilo tomar aro lekha dekhte pabo.
    Shubhechhante
    Palak o Aparajita

  11. Sujan DasGupta says:

    অপরাজিতা ও পালক –
    এই সংখ্যার সবগুলো লেখাই তোমাদের ভাল লাগবে আশা করছি। ভাস্কর বসু ও কেয়া মুখোপাধ্যায়ের অনেক পরিশ্রমের ফসল এই বিশেষ সংখ্যা। সুমিত রায়ের লেখার ওপর তোমাদের মন্তব্য পড়েছি, এখানে যেটা দিয়েছো – সেটা তো পড়লামই। অনেক ধন্যবাদ।

    • palak kanti maitra says:

      সুজন
      অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য। অবসর আমাদের অত্যন্ত প্রিয় Website.সুদূর বিদেশে থেকেও তোমাদের বাংলা সাহিত্যচর্চা আমাদেরও অনুপ্রাণীত করে।অবসরের আরো শ্রীবৃদ্ধি
      কামনা করি।
      পালক ও অপরাজিতা

  12. Sumit Roy says:

    palak kanti maitra স্যার, “বাংলা সাহিত্যচর্চা”টাই দেখলেন, পেছনে এক পিঁজরাপোলবাসী বৃদ্ধ টেকনিক্যাল কনসাল্‌টেন্টের আত্মত্যাগটা দেখলেন না, হা হতোস্মি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>