পুরনো
দিনের পত্রিকা ও বই থেকে নির্বাচিত প্রবন্ধ

প্রদীপ , প্রবাসী , ভারতবর্ষ ইত্যাদি মাসিক পত্রিকা
এবং মুলতঃ ছোটদের জন্য রচিত পার্বণী , সন্দেশ প্রভৃতি
পত্রিকার প্রকাশ বহুদিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একটা
সময়ে এই সব বই সব শ্রেণীর পাঠকের কাছেই আদৃত হয়েছিল।
এ রকম কিছু পত্রিকা ও বই থেকে কয়েকটি প্রবন্ধ , ছোট
গল্প ও কবিতা এ কালের পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়াও থাকবে জলধর সেন রচিত কিছু ভ্রমণ কাহিনী। রচনাগুলিতে
মূল বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
১৩০৪ বঙ্গাব্দের
পৌষমাসে অর্থাৎ ১৮৯৭ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে 'প্রদীপ'
পত্রিকা রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত
হয়। পত্রিকাটি নানান বৈচিত্র্যে ভরপুর ত ছিলই এছাড়া
এটাই ছিল প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা। এ পত্রিকাটির
একটি বৈশিষ্ট্য ছিল এর আলোচনা বিভাগ , যেখানে লেখক এবং
পাঠক উভয়েই তাদের বক্তব্য ও মত প্রকাশের সুযোগ পেত।
'প্রবাসী'-র প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৩০৮ বঙ্গাব্দের
বৈশাখে , ১৯০০ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে। প্রথমে এলাহাবাদ
থেকে প্রকাশিত হলেও পরে প্রবাসী কোলকাতা থেকে প্রকাশিত
হত। এই পত্রিকা দুটির প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন
- "প্রথম যখন রামানন্দবাবু 'প্রদীপ' ও পরে 'প্রবাসী'
বের করলেন তাঁর কৃতিত্ব ও সাহস দেখে বিস্ময় লাগল। আকারে
বড়ো , ছবিতে অলঙ্কৃত , রচনায় বিচিত্র , এমন দামী জিনিস
যে বাংলাদেশে চলতে পারে তা বিশ্বাস হয় নি।" ১৯৪২
খৃষ্টাব্দের ৩০শে অক্টোবর ৭৭ বছর বয়সে রামানন্দের মৃত্যু
হয়। ১৩২০ বঙ্গাব্দের আষাঢ় থেকে জলধর সেনের সম্পাদনায়
ভারতবর্ষ মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকে। প্রবাসী
ও ভারতবর্ষ এক সময়ে একই সঙ্গে বাংলার পাঠকদের মন জয়
করেছিল। প্রবাসীর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ এবং ভারতবর্ষের
শরৎচন্দ্র। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বিষয়বস্তু নির্বাচন,
রুচি ও প্রচলিত ভাষার ধরন বদলে গিয়েছে , এ সত্বেও বেশ
কিছু পাঠকের কাছে সে যুগের রচনা মনোগ্রাহী হবে বলে মনে
হয়। অন্তত পরিবর্তনের ধারা ও এর সম্ভাব্য কারণ সম্বন্ধেও
দিশা দেখাতে পারে এই রচনাগুলি।
ছোটদের বার্ষিকী
'পার্বণী' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৫ বঙ্গাব্দে (১৯১৮ খৃষ্টাব্দে)।
সম্পাদক ছিলেন রবীন্দ্রনাথের জামাতা (রবীন্দ্র কন্যা
মীরা দেবীর স্বামী) নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। 'পার্বণী'
নামটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের দেওয়া। রবীন্দ্রনাথের
সেই সময়ের অপ্রকাশিত কবিতা 'ঠাকুর্দ্দার ছুটি' পার্বণীতে
প্রথম প্রকাশিত হয়। অসম্ভব চাহিদা থাকা সত্বেও পরের
বছর , ১৩২৬ বঙ্গাব্দে , পার্বণী প্রকাশিত হয় নি। এর
কারণ , সম্ভবতঃ নগেন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়ে
ফিরে এসে লেখা সংগ্রহ ও ছাপার কাজ সময় মত করে উঠতে পারেন
নি। ১৩২৬ সালে বন্ধ থাকার পর পরের বছর ১৩২৭ সালে পার্বণী
দ্বিতীয় ও শেষ বারের মত প্রকাশিত হয়। পার্বণী বন্ধ হয়ে
গেলেও ছোটদের বার্ষিকী এর পরেও প্রকাশিত হয়েছে। ১৯২৬
খৃষ্টাব্দে আশুতোষ লাইব্রেরী থেকে 'বার্ষিক শিশুসাথী'
এবং পরে ১৯৩১ সালে দেব সাহিত্য কুটীর থেকে 'ছোটদের চয়নিকা'
বার্ষিকী প্রকাশনার ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এর পরে বহু
বছর ধরে দেব সাহিত্য কুটীরের পূজোবার্ষিকী প্রতি বছর
বিভিন্ন নামে প্রকাশিত হয়েছে। অস্পষ্ট মনে পড়ে সম্ভবতঃ
১৯৫২ সালে আমি যখন ৫ম শ্রেণীর ছাত্র তখন দেব সাহিত্য
কুটীরের 'পরশমণি' পূজোবার্ষিকীটি কিনে নিয়ে এসেছিলাম।
এই ধারাবাহিকের
সঙ্কলনগুলিতে যেখানে রচয়িতাদের সম্বন্ধে তথ্য যোগাড়
করা গিয়েছে সেখানে প্রতিটি রচনার শুরুতেই লেখক পরিচিতি
দেওয়া হয়েছে। যেখানে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি , কোন পাঠক
যদি তাদের সম্বন্ধে কিছু জানাতে পারেন তবে তা সাগ্রহে
গৃহীত হবে এবং সেটা সংযোজনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রসঙ্গত
পুরনো লেখকদের নিয়ে আরও একটি বিভাগ "
সেকালের জনপ্রিয় লেখক ও তাদের লেখা" অবসর-এ
আছে। সেখানেও বেশ কিছু পুরনো লেখা সংকলিত হয়েছে।
দীপক
সেনগুপ্ত