(ঝ) পরিবহনে সবুজজ্বালানির
বাজার
এই অংশে আমরা আলোচনা
করবো পরিবহনে জৈব-জ্বালানির অবদান- (১) ইথানল- যা' প্রাথমিকভাবে
উত্পাদিত হয় শস্য এবং আঁখ থেকে ; (২) জৈবডিজেল- যার
উত্পাদনে লাগে অব্যবহৃত উদ্ভিদ-তেল, বর্জ শাক-সবজি তেল,
পশু চর্বি, মাছের তেল এবং অ্যালজি ( এখনও ব্যবসায়িক
হয়নি ) ।
স্বল্প অথচ ক্রমবর্ধমাণ পরিমানে বায়োগ্যাস এখন ট্রেন,
বাস ও অন্যান্য পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে । অসট্রিয়া, ফ্রান্স,
জারমানি, সুইডেন ও সুইজারল্যাণ্ড-এ প্রাথমিকভাবে বায়ো-মিথেন
ব্যবহৃত হচ্ছে বাস ও মটোরগাড়ীতে । ২০১০ খ্রী-তে সুইডেন-এর
মোট পরিবহন-জ্বালানীর জৈব-জ্বালানে-অংশের ( ৫.৭ শতাংশ
) ১১ শতাংশ ( শক্তির ভিত্তিতে ) হল বায়োগ্যাস ।
তরল জৈবজ্বালানির অবদান অল্প হলেও বিশ্বের ক্রমবর্ধমান
চাহিদার কিছুটা মেটাচ্ছে । ২০১০ খ্রী-তে সড়ক-পরিবহনে
এর অবদান ছিল মোট চাহিদার ২.৭ শতাংশ । কোনও কোনও রাজ্যে
বা অঞ্চলে অবশ্য এর ব্যবহার অনেক বেশি যথা, মাঃ. য়ুক্তরাষ্ট্রে
৪ শতাংশ, ইয়োরোপীয় ইউনিয়ন- ৩ শতাংশ ; ব্রাজিল, যেখানে
আঁখ থেকে ইথানল তৈরি হয়, সেখানে হালকা-ডিউটি যানের জন্য
এর ব্যবহার ( ২০১০ খ্রী-তে ) ৪১.৫ শতাংশ । মাঃ. যুক্তরাষ্ট্র,
বিশ্বের সর্ববৃহত্ উত্পাদনকারী জৈবজ্বালানীতে, তার পর
পর আসছে ব্রাজিল এবং ইয়োরোপীয় ইউনিয়ন । উত্পাদন ক্রমবর্ধমান
হলেও ২০০৯-১০ নাগাদ একটু কমেছিল ( চিত্র ১৬ , সারণী
৮ ) ।

চিত্র
১৬ : ইথানল ও বায়ো-ডিজেল উত্পাদন ।

সারণী
৮ : জৈবজ্বালানি উৎপাদন- উপর থেকে ১০টি রাজ্য,
ই. ইউ. এবং মোট বিশ্ব, ২০১০ খ্রী. ।
ইথানল
২০১০ খ্রী-তে বিশ্বে
ইথানল উত্পাদন ৮৬ বিলিয়ন লিটার-এ পৌঁছেচে, যেটা ২০০৯
খ্রী-র থেকে ১৭ শতাংশ বেশি । মাঃ. যুক্তরাষ্ট্র উত্পাদন
করেছে বিশ্ব-উত্পাদনের ৫৭ শতাংশ আর ব্রাজিল ৩১ শতাংশ
। মাঃ. যুক্তরাষ্ট্র ২০০৯-এর তুলনায় ৮.৪ বিলিয়ন লিটার
বেশি উত্পাদন করেছে যার মধ্যে রেকর্ড ১.৩ বিলিয়ন রপ্তানি
( এই প্রথম ) করেছে কানাডা, জামাইকা, নেদারল্যাণ্ড,
সংযুক্ত আরব এমিরেটস' এবং ব্রাজিল । নিজস্ব ব্যবহারে
ইথানল মিশিয়েছে ৯০ শতাংশ গ্যাসোলিনের সঙ্গে । এই পরিমাণ
ইথানল প্রস্তুত করতে লেগেছে বিশ্ব শস্য উত্পাদনের প্রায়
৩ শতাংশ, সহ-ফসল হিসাবে উত্পন্ন হয়েছে ৩২.৫ মিলিয়ন টন
পশু-খাদ্য ।
প্রতিকুল আবহাওয়া বিশ্বে আঁখ উত্পাদন ব্যহত করেছে, বর্ধিত
মূল্য-সহ । ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন শস্য-নির্ভর
ইথানল-এর মূল্য কম হয়েছে ( যদিও এটা ভরতুকি-প্রাপ্ত,
ব্রাজিল-এর মতো নয় ) ।
এশিয়ার সব থেকে বড় উৎপাদক হল চীন ২ বিলিয়ন লিটার নিয়ে
; তারপরে আসছে থাইল্যাণ্ড ও ভারত, যার বার্ষিক উত্পাদন
বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৪ বিলিয়ন লিটার-এ ।
ইয়োরোপিয়নের মধ্যে যুক্ত রাজ্য তার বার্ষিক উত্পাদন
বাড়িয়েছে ( আজ পর্যন্ত সব থেকে বেশি ) ৩২৫ শতাংশ- ০.৩২
বিলিয়ন লিটার-এ । ফ্রান্স ও জারমানি রয়েছে উৎপাদকদের
প্রথম সারিতে ; অন্যান্যদের মধ্যে আছে কানাডা, কলম্বিয়া,
পোল্যাণ্ড এবং স্পেন ।
আফ্রিকা মহাদেশে উৎপাদন এখনো যদিও সামান্য, তবে বর্ধিত
হবার মুখে ।
জৈবডিজেল
বিশ্বে বায়োডিজেল
উত্পাদন হয়েছে প্রায় ১৯ বিলিয়ন লিটার ( বেড়েছে ৭.৫ শতাংশ
), ২০১০ খ্রী-তে ; পাঁচ বছরের ( ২০০৫-শেষ থেকে ২০১০
খ্রী )গড় বেড়ে হয়েছে ৩৮ শতাংশ । ২০১০ খ্রী-র উত্পাদনের
মানচিত্র এইরূপ :
(ক) ইয়োরোপিয়ন ইউনিয়ন : ১০ বিলিয়ন লিটারের বেশি ( বৃদ্ধির
হার মাত্র ২ শতাংশ ; ২০০৯-এ ছিল ১৯ এবং ২০০৫-এ ৬৫ শতাংশ
) । এই কমার কারণ সস্তায় আমদানী ( সাধারণতঃ, ইন্দোনেশিয়া
) ।
(খ) জারমানি : ২.৯ বিলিয়ন লিটার, তার পরেই আছে ( উৎপাদন
অনুসারে ) ব্রাজিল, আর্জেণ্টিনা, ফ্রান্স ও মাঃ. যুক্তরাষ্ট্র
।
জার্মানি-তে উৎপাদন কমেছে প্রধানতঃ ট্যাক্স-ক্রেডিট
তুলে দেওয়ার জন্য ; চাহিদা বেশি কমেছে বিশুদ্ধ ভেজিটেবল-তেল-এ
আর ভ১০০ ( ১০০ শতাংশ অ-মিশানো বায়োডিজেল)-এ ।
(গ) ২০০৯ খ্রী-র তুলনায় খুব বেশি কমেছে বেলজিয়াম, স্পেন,
শ্লোভাকিয়া ও যুক্ত রাজ্যে ।
(ঘ) উৎপাদন সব থেকে বেশি বেড়েছে ব্রাজিল ( ৪৬ শতাংশ-
২.৩ বিলিয়ন লিটার ) আর আর্জেণ্টিনায় ( ৫৭ শতাংশ- ২.১
বিলিয়ন লিটার, যার তিন-চতুর্থাংশ রপ্তানী হয় ।
(ঙ) মাঃ. য়ুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ( এই নিয়ে পর পর দু'বছর
হল ) ৪০ শতাংশ ।
(চ) ১২ শতাংশ বায়োডিজেল উৎপাদন বেড়েছে এশিয়া মহাদেশে
( ২০০৯ খ্রী-তে ছিল ১০ শতাংশ ), যার বেশিরভাগই পাম তেল
থেকে- ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যাণ্ডে ।
(৫) সবুজ শক্তি বিকাশে নীতি,
টার্গেট ও লগ্নী
উপরের আলোচনা থেকে
দেখা যাচ্ছে যে, বিগত কয়েক বত্সরে সবুজ শক্তি বিশেষ
উৎকর্ষ লাভ করেছে মূল্যে ( সারণী ৯ ), ক্রিয়াকর্মে এবং
নির্ভরযোগ্যতায় । এটা ঘটছে শুধু যে উন্নত দেশগুলিতে
তা নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলিও এগিয়ে এসেছে বা আসছে তাদের
আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্বেও । বায়ু এবং সৌর পি. ভি. কৃৎকৌশলগুলির
নেতৃত্বে অন্য সমস্ত সবুজ শক্তি উত্সগুলির বিশ্বব্যাপী
দ্রুত বিকাশ ঘটছে, তা' অভূতপূর্ব । কিয়োটো প্রটোকলের
দায়বদ্ধতার ঊধের্ব উঠে কোনও কোনও দেশ সবুজ শক্তি বিষয়ে
নীতি ( পলিসি ) গ্রহণ করেছে যার মূলে আছে একটি দর্শন,
যার ভিত্তি হল ৬টি বিষয়- আবহাওয়া-পরিবর্তন, পরিবেশ-বিচার,
শক্তি-নিশ্চয়তা, গ্রাহক চাহিদা, বর্ধিত নির্ভরযোগ্যতা
এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও বিকাশ ( চিত্র ১৭ ) ।

সারণী
৯ : জৈবজ্বালানির মূল্য, ২০১০ খ্রী.।

চিত্র
১৭ : সবুজ-শক্তির চাহিদায় কিছু চালিকাশক্তি ।
উৎস- -
Navigat
; Beijing Internatioal
Renewable
Energy Conference, 2005
সবুজ-শক্তির বিকাশে
বাজার বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি উপায় নির্দিষ্ট হয়েছে
। সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হল ( ক ) গবেষণা, উন্নয়ন
ও প্রমাণ- বিষয়ে ( ঋধ&ধ ) শিল্পোন্নত দেশগুলি থেকে
লগ্নী ; ( খ ) সমর্থনীয় পলিসি বা নীতি এবং নিয়ামক-কাঠামো
গঠন ; (গ) শক্তি-নিশ্চয়তার ব্যবস্থা ; ( ঘ ) পরিবেশ
এবং আবহাওয়া-বিষয়ক চিন্তা এবং ( ঙ ) স্থানীয় ও আঞ্চলিক
বিকাশের সুযোগ যা এই কৃত্কৌশল দিতে পারে । জীবাশ্ম-জ্বালানির
ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং যোগানে অনিশ্চয়তা মানুষের আগ্রহ
বাড়াচ্ছে সবুজ শক্তিতে ।
নীতি বা পলিসি (
policy
)
বিশ্বে মোট শক্তি
উত্পাদনে পুনর্নবীকরণ শক্তি উত্সগুলির অবদানের অংশ বৃদ্ধি
করার পিছনে আছে সুষ্ঠু রক্ষণ-পলিসি । মোটামুটি ২০০৯-১০
খ্রী থেকেই এটা শুরু হয়েছে ।
২০১১ খ্রী-র প্রথম দিকে ১১৮টি দেশ হয় সবুজ-শক্তি বিষয়ে
টার্গেট গ্রহণ করল অথবা সবুজ- শক্তির বিকাশে পলিসি ঘোষনা
করল ( ২০০৫ খ্রী-তে ছিল ৫৫টি দেশ ) । মোটামুটি ১০-৩০
শতাংশ অংশ আবদ্ধ ( কমিট ) করা হচ্ছে প্রাথমিক ( প্রাইমারি
) ও অন্ত্য ( ফাইনাল ) সবুজ বিদ্যুত্ ও তাপীয় শক্তি
উত্পাদনে [ পরিশিষ্ট ৩ ( ক ) ], এবং পরিবহনে জৈবজ্বালানি
ব্যবহারে । কোনও কোনও দেশে প্রাদেশিক স্তরেও টার্গেট
নেওয়া হয়েছে [ পরিশিষ্ট ৩ (গ) ] । দুটি দেশ, সুইডেন
ও ফিনল্যাণ্ড তাদের ২০২০ খ্রী-র টার্গেট অতিক্রম করে
ফেলেছে ২০১০ খ্রী-তে ; এরা ছাড়া টার্গেটের সীমা বর্ধিত
করেছে জার্মানি, স্পেন ।
আগ্রহ বেশি দেখা গেল উন্নয়নশীল দেশগুলিতে । টার্গেট-গ্রহণ
বা পলিসি গ্রহণে মোট দেশের অর্ধেকের বেশি হল উন্নয়নশীল
দেশগুলি । নূতন টার্গেট গ্রহণ করেছে অনেকের মধ্যে দক্ষিণ
আফ্রিকা, গুয়াতেমালা ও ভারত ।
পুরো মানচিত্রটি
পালটাতে শুরু করেছে ; ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বায়ু-শক্তি
উত্পাদন ছিল হাতে-গোনা কয়েকটি দেশে- ১৯৯০ খ্রী-তে, আজ
সেখানে অন্ততঃ ৮৩ টি দেশ বায়ু-শক্তির বিকাশে অংশ গ্রহণ
করছে । ২০১০ খ্রী-তে ১০০টির বেশি দেশ সৌর-পি.ভি. শক্তি
বিকাশে যুক্ত হয়েছে ।
সবুজ বিদ্যুত্-শক্তি
উত্পানের পলিসি সাধিত হয়েছে ৯৬টি দেশে । পলিসিগুলির
মধ্যে সবথেকে ব্যাপক হয়েছে 'ফিড-ইন-ট্যারিফ' ( ফএএদ-নে-থঅরফেফ-
ঈথ ) যা এর মধ্যেই চালু করেছে ৬১টি দেশ এবং ২৬টি প্রাদেশিক/
শহর শাসন-ব্যবস্থা । আর একটি পলিসি হল 'পুনর্নবীকরণ
পত্রপেটিকার নিরিখ' ( Renewable portfolio standard
– RPS) / 'কোটা' ( quota ) ।
ফিড-ইন-ট্যারিফ
একটি পলিসিগত পদ্ধতি যার দ্বারা সবুজ শক্তিতে লগ্নী
ত্বরান্বিত করা যায় । তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য হল : (১)
গ্রিড-এ সংযোগের গ্যারাণ্টি, (২) বিদ্যুত্ উত্পাদনের
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি, এবং (৩) উত্পাদন-মূল্যের উপর ভিত্তি
করে ক্রয়-মূল্য স্থির করা । উদাহরণ-স্বরূপ, বায়ু-শক্তির
কৃত্কৌশলে ইউনিট-প্রতি মূল্য হয় কম যেহেতু উত্পাদন মূল্য
কম ; আবার সৌর- পি. ভি. কৃত্কৌশলের জন্য ইউনিট-প্রতি
মূল্য বেশি যেহতু এই বিদ্যুতের উত্পাদন-মূল্য বেশি ।
এছাড়া ফিড-ইন-ট্যারিফ পদ্ধতিতে প্রায়শঃই যুক্ত করা হয়
" মূল্য অবনমন " ( tariff degression ) ব্যবস্থা
যাতে সময়ের সঙ্গে তাল রেখে মূল্য কমানো হয় । ফিড-ইন-ট্যারিফ
পদ্ধতির উদ্দেশ্য যেহেতু পরিশেষে উত্পাদকদের লগ্নীর
তুল্যরূপ ফেরত দেওয়া মূল্য-নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি
অবলম্বন করে, তাই এই পদ্ধতি লগ্নীকারদের আকর্ষণ করছে
।
সবুজ শক্তির সমর্থনে
আরও কিছু পলিসি চালু হয়েছে বিভিন্ন দেশে, যেমন সোজাসুজি
মুলধন-লগ্নীতে ভর্তুকি, অথবা অবহার ( রিবেট ), ট্যাক্স-
E'নসেনটিভ', গণ-লগ্নী ( পাবলিক ফাইননসিং ), ইত্যাদি
। পুনর্নবীকরন তাপীয ব্যবস্থায় উত্সাহ দেওযার জন্য কিছু
দেশ যথা, যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পলিসি নিয়েছে
; আর ৩১টি দেশ জাতীয়স্তরে জৈবজ্বালানি মিশ্রণের কাজে
পলিসি গ্রহণ করেছে । পলিসিগুলির মধ্যে ভরতুকি এবং ট্যাক্স-ছাড়
প্রধান । ফিনল্যাণ্ড, ইথিওপিয়া, থাইল্যাণ্ড ও স্পেন
২০১০ খ্রী-তে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জামাইকা নূতন মিশ্রণ-পলিসি
ঘোষণা করেছে ।
অনেক স্থানেই নগর
ও অন্যান্য স্থানীয় শাসকগোষ্ঠী সবুজ-শক্তি প্রবর্তনে
অগ্রণী ভুমিকা নিচ্ছে নানা উত্সাহবর্ধক নীতি গ্রহণ করে
। অন্ততঃ ৯৫টি দেশ নিয়েছে কোনও রকমের কার্যক্রম পূনর্নবীকরণ-শক্তি
উত্পাদনে । প্রায় সবাই প্রবর্তন করেছে 'ফিড-ইন' মাশুল
(feed-in tariff) ।
লগ্নী
২০১০ খ্রী-র প্রথম
দিকে সবুজ-শক্তিতে লগ্নী বৃদ্ধির হার ছিল কিছুটা স্তিমিত,
বোধ করি কপেনহাগেন আবহাওয়া পরিবর্তন-বিষয়ক কনফারেন্স
( ডিসেম্বর, ২০০৯ ) ফলপ্রসু না হওয়ায় । তথাপি, লগ্নী
( চিত্র ৯, অংশ ৪ ), ২০০৯-এর ১৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১০-এ
বেড়েছে ২১১ বিলিয়ন ডলার-এ ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ২০১০ খ্রী-র প্রথম তিন মাসে
ভালোই লগ্নী হয়েছিল- ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ( ২০০৯ খ্রী-র
শেষ তিনমাসের ২.৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ) আর চীন-এ লগ্নী
হয়েছিল ৬,৫ বিলিয়ন ডলার- বেশির ভাগই বায়ুর 'মেগা' প্রোজেক্ট
ও বেশ কিছু ছোট প্রোজেক্ট ।
২০১০ খ্রী-র প্রথম তিন মাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সবুজ-শক্তিতে
ঝুঁকি মুলধন ( venture capital ) এবং প্রাইভেট মুলধনের
অংশে লগ্নী । এই লগ্নী ২০০৯ খ্রী-র শেষ তিন মাসের ১.৭
বিলিয়ন ডলার ও ২০০৯ খ্রী-র প্রথম তিন মাসের ১.৫ বিলিয়ন
ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৯ বিলিয়ন ডলার ।
সারণী ১০-এ ২০১০-খ্রী-তে লগ্নীর উপরথেকে প্রথম ৫ টি
রাজ্যের নাম দেওয়া হল :

সারণী
১০ : নূতন লগ্নীতে উপর থেকে ৫টি রাজ্য ।
২০১০-খ্রীষ্টাব্দ
শেষ হওয়ার আগে সবুজ শক্তিতে বেশ কয়েকটা বড় বড় লগ্নীর
লেনদেন শেষ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল আকর্ষণীয় ভর্তুকির
সুযোগ নেওয়ার জন্য । কিন্তু আশ্চর্যের কথা, ২০১১-র প্রথম
তিন মাসে নূতন লগ্নী তুলনামূলকভাবে নরম হয়েছে ( ৩১ বিলিয়ন
মাঃ. ডলার ) যা, ২০১০ খ্রী-র শেষ তিন মাসের ৪৪ বিলিয়ন
এবং ২০১০ খ্রী-র প্রথম তিন মাসের ৩২ বিলিয়নের থেকে কম
।
'য়্যাসেট ফাইনান্স'-এ সব থেকে বড় খর্বতা হয়েছে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের বায়ু-শক্তি এবং ইয়োরোপ-এর সৌর-শক্তির
বেলায়, প্রকৃত ডলার মূল্যে । সব থেকে উজ্জ্বল অবস্থা
হল চীন দেশের বায়ু-শক্তির বেলায় ২৫-শতাংশ বৃদ্ধি ২০১০-এর
একই সময়ের তুলনায়, এবং ব্রাজিল-এ, যেখানে লগ্নী আগের
বৎসরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে ।
চালু বড় বায়ু-বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি হল ব্রাজিল-এর ২১১
মেগা-ওয়াট IMPSA Ceara এবং ১৯৫ মেগা-ওয়াট Renova
Bahera
বায়ু পত্রপেটিকা এবং চীন-এর ২৫০ মেগা-ওয়াট Hebei
Weichang Yudaokou
গ্রাম । ইয়োরোপে কয়েকটি সৈকত-অঞ্চলে সমুদ্রে বায়ু-বিদ্যুত্
প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে যথা, জার্মানি-র ধঅন থযসক
প্রোজেক্ট, নেদারল্যাণ্ড-এর ঋঅনদসতঅদ প্রোজেক্ট । রাষ্ট্রীয়
বাজার-লগ্নীগুলির মধ্যে রয়েছে ১.৪ বিলিয়ন ডলার শনেওvএল
বায়ু প্রকল্পের শেয়ার বিক্রয় এবং শহঅনদওনগ ঝনেজনেগ শচেএনচএ
& থএচহনওলওগয-র ২২০ মিলিয়ন ডলার সৌর প্রকল্পের শেয়ার
উত্সর্গ- দুটোই চীন-এ । ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ক্ষেত্রে
সব থেকে বড় লগ্নী হয়েছে, ২০১১ খ্রী-র প্রথম তিম মাসে,
মাঃ. য়ুক্তরাষ্ট্রের বায়োমাস ও বর্জ-থেকে-শক্তি প্রকল্পে
১৪৩ মিলিয়ন ডলার ।
মার্চ ২০১১-তে জাপানে ভূমিকম্প এবং সুনামি, তত্সহ কেসেহমেঅ
ধঅেচেহে-র চুল্লি-ঘটিত সমস্যা পারমানবিক বিদ্যুতের ভবিষ্যত
সম্বন্ধে সংশয় এনে দিয়েছে । ফলশ্রুতি হিসাবে হয়েছে,
সবুজ-শক্তি কোম্পানিগুলির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি, যদিও
প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত বিদ্যুত্ উত্পাদন এই সমস্যার
কিছুটা বিকল্প হিসাবে ভাবা যেতে পারে ।
পরিশিষ্ট
৩. নিম্নে উদ্বৃìত
হল কিছু রাষ্ট্র / মিউনিসিপালিটি -ঘোষিত সবুজ- শক্তির
বিকাশের জন্য টারগেট, ভরতুকি, অনুদান ইত্যাদি । বিশদভাবে
জানতে হলে তথ্যগুলির উৎস দেখুন ।
উত্সগুলি হল :
REN21, Institute for Sustainable Energy Policies,
and ICLEI Local Governments for Sustainability, Global
Status Report on Local Renewable Energy (September,
2009)

সারণী
পরিশিষ্ট ৩(ক) : রাজ্য/ অঞ্চল- ভিত্তিক প্রাথমিক ও অন্ত্য
শক্তি- শেয়ার ও টারগেট ।

সারণী
পরিশিষ্ট ৩(খ) : সবুজ-শক্তি থেকে বিদ্যুত্, ২০০৯ খ্রী
এবং
কিছু বাচাইকরা দেশের টারগেট ।

সারণী
পরিশিষ্ট ৩(গ) : অদ্যাবধি টারগেট - হীন রাজ্য , সবুজ
-শক্তির শেয়ার- ২০০৯ খ্রী-র শেষ ।

সারণী
পরিশিষ্ট ৩(ঘ) : শহর-ভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎ- ইউটিলিটির
নীতি
বা পলিসি ।

সারণী পরিশিষ্ট ৩(ঙ) : সবুজ শক্তির বিকাশে ভর্তুকি,
অনুদান,
ঋণ ।

সারণী
পরিশিষ্ট ৩(চ) : সবুজ শক্তির বিকাশে কিছু শহরানচলে
সরকারী ফাণ্ড ও অগ্নী ।

সারণী
পরিশিষ্ট ৪ : পরিবহন বিষয়ে সবুজ-শক্তি ব্যবহারে
কিছু শহরে হুকুমনামা ।
( ক্রমশঃ )
শঙ্কর
সেন