'রম্যাণি
বীক্ষ্য' নামটি কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলমের একটা
শ্লোকের প্রথমাংশ। রবীন্দ্রনাথ এর অনুবাদ করেছেন 'সুন্দর
নেহারি' । তার মানে, নানা রম্যস্থান প্রত্যক্ষ করে মনে
যে ভাব এল, তারই অভিব্যক্তি এই রচনায়। ভারতের বিভিন্ন
প্রান্তে যেখানে যা কিছু মনোরম দ্রষ্টব্য স্থান আছে,
সাবলীল ভাষায় ও মনোজ্ঞ ভঙ্গীতে তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে
গ্রন্থকার তার ধারাবাহিক ভারত-দর্শনের কাহিনী পাঠকের
সামনে উপস্থাপিত করেছেন। এই গ্রন্থে ভারতের পৌরাণিক
ও ঐতিহাসিক পরিচয়ই শুধু নয়, বর্তমানের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক
আলোচনাও আছে। তীর্থ-মাহাত্ম্যের পৌরাণিক বিবরন দিতে
গিয়ে বিদগ্ধ গ্রন্থকার মন্দির-স্থাপত্য ও তার কিংবদন্তী
জনশ্রুতিকেও আলোচনার বলয়ের মধ্যে টেনে এনেছেন। এতে নূতন
ও পুরাতন কাল মিলিয়ে ভারতের একটি সামগ্রিক রূপ পাথকের
দৃষ্টির সমক্ষে উদঘাটিত হয়েছে।
কিন্তু শুধুমাত্র
ভ্রমণ-বিবরণই এই গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য নয়। ভ্রমণ-কাহিনীর
সঙ্গে একটি জীবন-ঘনিষ্ট কাহিনীও বইগুলির ভিতর এক অপূর্ব
স্বাদের সঞ্চার করেছে। ভ্রমণে যাঁরা উৎসাহী নন, জীবনে
যাঁরা শুধু প্রাণরসেরি সন্ধানী, উপন্যাসের রসের আকর্ষণে
তাঁরাও এই গ্রন্থের প্রতিটি পর্ব সাগ্রহে পাঠ করবেন।
ভ্রমণ-রসসিক্ত উপন্যাস অথবা উপন্যাস-রসসিক্ত ভ্রমণ-এই
দুই নামেই বইগুলিকে অভিহিত করা চলে।
ধনী মামা অঘোর
গোস্বামী তাঁর স্ত্রী ও অনূঢ়া কন্যা স্বাতিকে নিয়ে দক্ষিণ
ভারত ভ্রমণের জন্য হাওড়া স্টেশনে ট্রেন ধরতে এসেছেন।
এই সময় প্লাটফর্মে অপ্রত্যাশিত ভাবে এক পাতানো ভাগ্নে
গোপালের সঙ্গে দেখা। গোপাল লোকাল ট্রেনের যাত্রী, কেরানীর
কাজ করে কলকাতায়। মার্জিত রুচি ও শিক্ষায় তার আত্মপ্রত্যয়
প্রতিষ্ঠিত। মামা-মামী তাকে সঙ্গী হবার অনুরোধ জানালেন
আর স্বাতির দৃষ্টিতে গোপাল আবিষ্কার করল এক আন্তরিক
আবেদন। চলতি ট্রেনে তাকে উঠে পড়তে হল।
শুরু হয়ে গেল ভ্রমণ
কাহিনী। অন্ধ্র থেকে ভুটান ২৪ টি পর্বে নতুন নতুন দেশ
দেখার অভিজ্ঞতাই শুধু নয় সেই দেশের ইতিহাস ও অন্যান্য
সংস্কৃতির পরিচয় পাই ছত্রে ছত্রে।
সম্প্রতি এ
মুখার্জী এণ্ড কোং নতুন করে এই বইটি ছাপিয়ে বহু
পাঠককের আশা পূরণ করেছেন।
(আপনার
মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)