অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।


বিবিধ প্রসঙ্গ

মে ১৫, ২০১৭

 

বিশ্বতানের স্বরলিপি এবং একটি শিশির বিন্দুর উত্তরাধিকার

সোমেন দে

আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে বালকটি। এখন তার বয়স বছর দশেক। সে মায়ের সঙ্গে পৌষ মেলা দেখবে বলে এসেছে শান্তিনিকেতনে। সম্প্রতি বালকটি একটি নতুন অটোগ্রাফের খাতা কিনেছে হোয়াইটওয়ে লেডলএর দোকান থেকে। তার বড় সখ সেই খাতার প্রথম পাতায় অটোগ্রাফটি হবে রবীন্দ্রনাথের। এই মানুষটিকে ঠিক তেমন ভাবে সে চেনেনা তখনো। তবে সে জানে উনি তার ঠাকুরদার বিশেষ বন্ধু ছিলেন আর তার পিতাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তার পিতার জীবনের শেষ সময়ে এই মানুষটি পাশে বসে পাঠ করেছেন উপনিষদ। এক শীতের সকালে মায়ের সঙ্গে বালকটি গেল উত্তরায়ণে। জানলার দিকে পিঠ করে একটি টেবল চেয়ারে বসে আছেন রবীন্দ্রনাথ। সামনের টেবিলে বই খাতা চিঠি পত্রের বিরাট অগোছালো স্তূপ। বালকটি তখন সবে স্ট্যাম্প জমাতে শুরু করেছে। তাই তার নজর গেল টেবিলের চিঠির খামে লাগানো রঙবেরঙের  স্ট্যাম্প গুলোর উপরে। তার ভাবনা ইস , এই স্ট্যাম্পগুলো যদি পাওয়া যেত। সে কথা মুখে বলতে না পেরে চুপচাপ তার বেগুনি রঙের অটোগ্রাফের খাতাটি এগিয়ে দিল রবীন্দ্রনাথের দিকে। বালকটির ইচ্ছে একটি অটোগ্রাফের , কিন্তু তার মায়ের ফরমাইশ ছিল সঙ্গে একটি কবিতাও। সে খাতা রবীন্দ্রনাথের হাতে দিতে তিনি বললেন ‘এটা থাক আমার কাছে। কাল সকালে নিয়ে যেও’। কথা মত বালকটি পরের দিন সকালে দুরু দুরু বক্ষে গিয়ে হাজির হল উত্তরায়ণে। রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন লেখার টেবিলে। তাকে দেখেই বললেন ‘লেখা হয়ে গেছে কিন্তু খাতাটা কোথায় রাখলাম সেটাই প্রশ্ন ’। বেশ খানিকক্ষণ খোঁজার পর পাওয়া গেল সেই বেগুনি রঙের ছোট্টো অটোগ্রাফের খাতাটি। সেখানে অটোগ্রাফ তো দিয়েছেনই , সঙ্গে লিখে দিয়েছেন আট লাইনের একটি কবিতা। বালকের মার দিকে তাকিয়ে কবি বললেন ‘এটার মানে ও বড় হলে বুঝবে।‘

বালকটি কবিতাটি বারো বছর পর্যন্ত আগলে রেখেছিল তার নিজের সম্পত্তি মনে করে। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর অবশ্য সে সম্পত্তিতে ভাগ বসিয়েছি আমরা সবাই। কারণ সে কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল ‘স্ফুলিঙ্গ’তে। সেদিন বালকটির কাছে যা তার একার সম্পত্তিটি ছিল সেই কবিতাটি –
বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপর
একটি শিশির বিন্দু

কিন্তু সেই বালকের কাছে কি আলাদা করে কিছু অর্থ বহন করেছিল এই আট লাইনের কবিতাটি ? এই যে ঘর হতে দু পা দূরের ধানের শিষের উপর শিশির বিন্দুটিকে অবলোকন করতে না পারলে যে সম্পূর্ণ হয় না বড় বড় দেখা , এই ভাবনার মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে যে শিকড়ের কথা আছে তা কি সেই বালকটির মানসলোককে কোনো ভাবে নাড়া দিয়েছিল ? হয়ত বালকটির বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই শিকড়কে দেখা , বোঝা এবং জানার ইচ্ছেটি থেকে নির্মিত হয়েছে একটি শিল্পীসত্তা , যা পরবর্তীকালে বিশ্বজনকে উপহার দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলি।

বাল্যের সেই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের পরে অবশ্য রবীন্দ্রনাথ অনেক দূরেই রয়ে গেছলেন মানিকের কাছ থেকে। বালিগঞ্জ গভরমেন্ট স্কুল থেকে ১৯৩৬ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দিয়ে যখন সে ভাবছে কি পড়ব,
সে সময় পাইকপাড়ার সিংহদের বাড়িতে এক সভায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হয় সত্যজিতের মা সুপ্রভা দেবী এবং সত্যজিতের। রবীন্দ্রনাথ কিশোর সত্যজিৎকে বলেন ‘আশ্রমে চলে এসো। ’ সত্যজিতের তেমন ইচ্ছে ছিল না। কারণ তিনি কলকাতা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাননি। হয়ত শান্তিনিকেতন সম্বন্ধে তাঁর ধারণাও সে সময় খুব ভালো ছিল না।

 তা ছাড়া তার বাবার বন্ধু প্রশান্ত মহালনবিশ প্রস্তাব দেন যদি সে অর্থনীতি নিয়ে পড়ে তাহলে তা হলে ‘সংখ্যা’ পত্রিকায় আড়াইশো টাকা মুল্যের একটি চাকরি দেওয়া হবে। বিধবা মা একটি স্কুলে গান এবং সেলাইয়ের শিক্ষকতা করে সামান্য টাকা রোজকার করেন। তাই তাঁর কাছে আড়াইশো টাকার মুল্য তখন অনেক ছিল। সত্যজিৎ অনাগ্রহ সত্বেও প্রেসিডেন্সি কলেজে অর্থনীতি নিয়ে ভর্তি হন। এবং স্নাতক হন ১৯৪০ সালে। সে সময় সিনেমার পোকা মাথায় ঢুকে পড়েছে। পাগলের মত মার্কিন ছবি দেখছেন , ছবি নিয়ে পড়াশোনা করছেন , ক্যামেরায় ছবি তুলছেন।

শান্তিনিকেতন তখনো তাঁকে কোনো ভাবেই টানছে না। কিন্তু মায়ের প্রবল ইচ্ছে সে শান্তিনিকেতনে যাক। শেষ পর্যন্ত যে সত্যজিতের শান্তিনিকেতনে যাওয়া হল, তার পিছনে একটি পরলোকচর্চার গল্প আছে।
১৯২৯ সালের শেষদিকে রবীন্দ্রনাথ মেতেছিলেন প্লানচেট নিয়ে। এ সময় কিছুদিন কেমন যেন নেশাগ্রস্তের মত অবসর পেলেই তিনি প্লানচেটের মাধ্যমে প্রয়াত মানুষের আত্না নামাবার চেষ্টা করতেন। সে সময় একদিন সুকুমার রায়ের আত্নাকেও আনা হয়। এই আত্নার সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের বিবরণ রবীন্দ্রভবনের একটি খাতায় রক্ষিত আছে। যা নিয়ে অমিতাভ চৌধুরি একটি বই লেখেন। এই সাক্ষাতকারের এক জায়গায় আছে সুকুমার রায় রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করছেন –

‘ আচ্ছা , আমার ছেলেকে আপনার আশ্রমে নিতে পারেন ? ’
রবীন্দ্রনাথ উত্তর দেন ‘তোমার স্ত্রী যদি সম্মত হন’।
সুকুমার রায় বলেন – ‘তাঁকেও বলুন না’।
রবীন্দ্রনাথের উত্তর ছিল ‘তাকে পেলে আমিও খুশি হব। ... আমি তাকে বলব তোমার কথা’।

হয়ত সুপ্রভাদেবীর কাছে প্রয়াত সুকুমার রায়ের কাছ থেকে পাওয়া ইচ্ছার সংকেতের অনেক মুল্য ছিল।

১৯৪০ সালে প্রেসিডেন্সি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হয়ে সত্যজিৎ শান্তিনিকেতনে আসেন ছবি আঁকা শিখতে , হয়ত কিছুটা মায়ের ইচ্ছা পুরনের জন্যই। মাকে বলে গেছলেন ভালো না লাগলে চলে আসবে। কিন্তু তখনই ফিরে তিনি আসেন নি। হয়ত ভালো লেগে গেছল সেখানকার পরিবেশ। অনেক দিন পরে একটি বক্তিতায় স্বীকার করেছিলেন – ‘শান্তিনিকেতনে গিয়ে আমার চোখ এবং কান দুই খুলে গেল। ’ আর এক জায়গায় বলেছিলেন শান্তিনিকেতন তাঁকে শিখিয়েছিল ছবি বুঝতে আর প্রকৃতিকে দেখতে।

এই চোখ খোলা বা ছবি বুঝতে পারার পিছনে যাদের অন্যতম ভুমিকা ছিল তাঁরা হলেন নন্দলাল বোস , বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায় এবং রামকিঙ্কর বেইজ। আর প্রকৃতিকে দেখা আর সঙ্গীত শুনবার কান খোলার পিছনে অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ ছিলেন কোনো না কোনো ভাবে।
শান্তিনিকেতনে গিয়েই প্রথম দিন সত্যজিৎ দেখা করতে যান রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। তিনি তখন উদীচিতে। সত্যজিৎ দেখলেন তিনি বারান্দায় বসে আছেন একটা আরামকেদারায় ঠেস দিয়ে। পা দুটো টুলের উপর রাখা। একেবারে স্থির হয়ে বসে আছেন। এমন কি সত্যজিৎকে দেখেও কিছু বললেন না। পরে সত্যজিৎ বুঝতে পারে আসলে তিনি এক ভাস্করকে সিটিং দিচ্ছেন। যে ভাস্কর সে সময় তাঁর মুর্তি গড়ায় ব্যাস্ত ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত ভাস্কর Jacob Epstein। পরে তার কাছ থেকে ছুটি পেয়ে রবীন্দ্রনাথ সত্যজিৎকে মজা করে দেখিয়েছিলেন এই ভাস্কর কি ভাবে উৎপাত করে তাঁকে জ্বালায়। এর পর যতদিন শান্তিনিকেতনে ছিলেন আর বিশেষ দেখা সাক্ষাৎ হয়নি দু জনে। তখন একটু মুখচোরাই ছিলেন সত্যজিৎ। কবির শরীরও তখন বেশ ভেঙ্গে পড়েছে। তাই দূর থেকেই দেখতেন কবিকে।

শেষবারের মত যেদিন অসুস্থ রবীন্দ্রনাথকে শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি বাসে ,সেদিন অনেক ছাত্রের সঙ্গে এক কোনায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সত্যজিৎ। কবির ইচ্ছে অনুযায়ী শান্তিনিকেতনের বাসে তাঁকে ঘুরিয়ে দেখানো হয় তাঁর প্রিয় শালবীথি, সিংহসদন, শ্রীভবন, ছাতিমতলা এই সব। তার কয়েকদিন পরেই শান্তিনিকেতনে খবর আসে কবির অবস্থা খুব শঙ্কটজনক , যারা কলকাতায় যেতে চায় তারা ট্রেনে করে যেতে পারে। কলাভবনের সহপাঠী বন্ধু দিনকর কৌশিকের সঙ্গে সেদিন ট্রেনে রওনা হন সত্যজিৎ। কিন্তু কলকাতায় পৌঁছেই খবর পেলেন কবি আর নেই। জোড়াসাঁকো থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমুদ্রে এক জন হয়ে সেদিন হেঁটেছিলেন সত্যজিৎ।

 

এর পর চলে আসা যাক ১৯৪৮ সালে। সত্যজিৎ তখন চাকরী করেন ডি যে কিমার এ। বিজ্ঞাপনের কোম্পানি। কিছুটা সৃজনশীলতার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। তবে সিনেমার পোকা তখন মাথায় প্রবল ভাবে নড়াচড়া করছে। সে সময় একটি আড্ডার গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল যারা আড্ডা দিতেন কফি হাউসে। এর মধ্যে ছিলেন হরিসাধন দাসগুপ্ত , চিদানন্দ দাশগুপ্ত , রাধাপ্রসাদ গুপ্ত , কমল কুমার মজুমদার, বংশী চন্দ্র গুপ্ত এ রকম আরো অনেক গুণী মানুষ। এই সময় সত্যজিৎ ভাবছেন ‘ঘরে বাইরে’ নিয়ে ছবি করার কথা। তবে যেহেতু হরিসাধন দাশগুপ্ত হলিয়ুড থেকে ছবি পরিচালনার বিষয়ে ট্রেনিং নিয়ে এসেছেন এবং সত্যজিৎ তখন পর্যন্ত ফিচার ফিল্ম পরিচালনায় হাত পাকাননি , তাই সেই আড্ডায় প্রাথমিক ভাবে কথা হয়েছিল ছবির চিত্ররুপ দেবেন সত্যজিৎ কিন্তু পরিচালনা করবেন হরিসাধন দাশগুপ্ত। তবে সবাই মিলে কফি হাউসে প্রায়ই আলোচনা হত ঘরে বাইরের ছবি করার বিভিন্ন দিক নিয়ে। এ সময়ে সত্যজিতের কথাবার্তায় সকলেই মুগ্ধ হতেন এটা সেই আড্ডার লোকেরা অনেকেই বলেছেন। একদিন খবর পাওয়া গেল ঘরে বাইরের হিন্দি ও বাংলা কপিরাইট বিশ্বভারতী থেকে কিনে নিচ্ছেন নিতীন বসু। কুড়ি হাজার টাকা থাকলে সেটা আটকানো যেতে পারে। কুড়ি হাজার টাকা তখন অনেক টাকা। কিন্তু তাও হাল ছাড়লেন না তাঁরা। হরিসাধনবাবু এক পাগলামি করে বসলেন। সদ্য বাবা মারা গেছেন। তিনি উদ্যোগী হয়ে পৈতৃক বাড়ি বিক্রি করে মায়ের কাছে কুড়ি হাজার টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে কিনে ফেললেন ‘ঘরে বাইরের’ চিত্রস্বত্ব।। একজন প্রযোজক পাওয়া গেল। নির্বাচন হয়ে গেল প্রধান চরিত্রের শিল্পীদের। নিখিলেশ হবেন রাধামোহন ভট্টাচার্য। সুপন্ডিত অভিনেতা , যিনি তাঁদের আড্ডায় মাঝে আসতেন। সন্দীপ এর জন্য ভাবা হল অভী ভট্টাচার্যকে। আর মাস্টারমশাইয়ের জন্যে ভাবা হয়েছিল মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের কথা। কিন্তু বিমলা ? অনেকের কথাই ভাবা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন সোনালী সেন রায় নামের এক সুন্দরী , শিক্ষিতা এবং অভিজাত মহিলা। এঁর কথা বলতে গেলে অন্য এক গল্পে চলে যেতে হবে। সেটা এখানে নিষ্প্রয়োজন।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে অনেক বাধাই ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালো প্রযোজক চেয়েছিলেন সত্যজিতের স্ক্রিপ্টে কিছু পরিবর্তন আনতে। কিন্তু সত্যজিত তাতে রাজী হলেন না। জীবনের প্রথম সিনেমার কাজে তিনি একটা আপোষ দিয়ে শুরু করতে চাননি। ঠিক এর পরেই বিখ্যাত পরিচালক রেনোয়ার The River ছবিটি তোলার জন্যে ভারত আগমন এবং সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা। অফিসে হাফ ছুটি করে সত্যজিতের রেনোয়ার সঙ্গে গ্রামবাংলার বিভিন্ন লোকেশনে ঘুরতে ঘুরতে নতুন করে বাংলাকে চেনা , এ সব ঘটে গেল কয়েকদিনের মধ্যে। নতুন করে এই বাংলাকে দেখতে গিয়ে একটা long shotএ কোথাও তিনি সেই ধানের উপর একটি শিশির বিন্দুটিকে দেখতে পেয়েছিলেন কিনা তার খবর একমাত্র তিনিই জানতেন। কিন্তু আমরা যেটা জানি , সেটা হল সত্যজিতের প্রথম ছবি রবীন্দ্রনাথের একটি উপন্যাস অবলম্বনে হতে হতেও হয় নি।
এবং আরো জানি এই সময়ে রেনোয়ার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো , ‘বাইসাইকেল থিফ’ সিনেমাটি দেখা এবং ‘আম আঁটির ভেঁপু’ নামের একটি বইএর প্রচ্ছদ আঁকতে গিয়ে একটি স্বপ্নের বীজ প্রোথিত হয়ে যায় সত্যজিতের ভাবনায় , সেটি হল ‘পথের পাঁচালী’ নিয়ে একটি ছবি করা।

সত্যজিতের প্রথম ছবি রবীন্দ্রনাথের না হয়ে বিভূতিভূষণের হয়ে যাওয়ার পিছনে বিধাতা পুরুষের কোনো কলকাঠি ছিল কিনা এবং তাতে আখেরে বাঙ্গালির লাভ হয়েছে বিচার করার সাধ্য নেই। তবে এই বাংলার আরেক বিশ্বখ্যাত চিত্রপরিচালক মৃনাল সেন মনে করেন এতে ভালোই হয়েছে। কারন পথের পাঁচালী বাংলা সিনেমায় না ঘটলে তাঁর মত পরিচালক সিনেমা করার কথা ভাবতেই পারতেন না। আর স্বয়ং সত্যজিত পঁয়ত্রিশ বছর পরে এক প্রবন্ধে লেখেন ‘ছবিটা যে তখন তৈরি হয়নি সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। এখন বুঝতে পারি কী শোচনীয় রকম অগভীর , হলিউডি ব্যাপার ছিল সেই চিত্রনাট্য।

১৯৫৫ তে পথের পাঁচালি , ১৯৫৬তে অপরাজিত , ১৯৫৭তে পরশপাথর , ১৯৫৮তে জলসাঘর, ১৯৫৯এ অপুর সংসার করে সত্যজিৎ রায় হয়ে গেছেন বিশ্ববিখ্যাত। কান , এডিনবার্গ,ম্যানিলা, রোম, সানফ্রাসিসকো,বার্লিন, ভ্যাঙ্কুভার , স্টার্টফোর্ড, নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছে পুরস্কার। বিভুতিভুষনের তিনটি উপন্যাসের থেকে, রাজশেখর বসুর একটি গল্প থেকে , তারাশঙ্করের একটি গল্প থেকে ছবি করেছেন , কিন্তু রবীন্দ্রনাথে তখনো হাত দেননি। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখায় আমরা জানতে পারি , সত্যজিতের মা একদিন সুভাষকে ডেকে বলেন – মানিককে বল না রবি ঠাকুরের গল্প নিয়ে ছবি করতে। সুভাষ বলেন – আপনি বলুন না , আপনি তো মা। সুপ্রভা দেবী বলেন – তোমারা বন্ধু বান্ধবরা বললে হয়ত শুনবে। পরে একদিন সুভাষ মুখোপাধ্যায় সত্যজিৎকে বলেছিলেন তাঁর মায়ের ইচ্ছের কথা। সত্যজিৎ বলেছিলেন হ্যাঁ, আমি জানি মায়ের ইচ্ছার কথা , আমাকে করতেই হবে।

১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের শতবার্ষিকী আসার আগে থেকেই সারা দেশ জুড়ে নানা রকম কর্মসুচী নেওয়া হয়ে ছিল। ১৯৫৯ সালে বিশিষ্টি লোকেদের নিয়ে একটি কমিটি হয় কি ভাবে শতবার্ষিকী উদযাপন হবে তা ঠিক করার জন্য। ঠিক হয় ফিল্ম ডিভিশন রবীন্দ্রনাথের উপর একটি ডকুমেন্টরি ছবি তৈরি করবে। কমিটি আলোচনা করে এই ছবি পরিচালক কে হবেন তা নিয়ে দ্বিধাভিভক্ত , তখন স্বয়ং জওহরলাল নেহরু ঠিক করেন এ ছবি পরিচালনার জন্যে সত্যজিৎ রায়ই যোগ্যতম ব্যাক্তি। সে সময় সত্যজিৎ ঠিক করেছেন তিনটি রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প নিয়ে একটি ফিচার ফিল্ম করবেন শতবার্ষিকীর কথা মাথায় রেখে। এ সময় আর একটি ডকুমেন্টরি ছবি করা খুবই দুরূহ ব্যাপার। তার উপরে এত বড় কর্মকান্ডের একটা জীবনকে একটা ডকুমেন্টারিতে ধরাতে গেলে তাঁর কবিতার লাইনই এসে পড়ে – ‘হায় গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কে বা। ‘ তবু সারা পৃথিবীর দর্শকদের কাছে রবীন্দ্রনাথকে উপস্থাপন করার পবিত্র কর্তব্যের কথা মাথায় রেখে তিনি রাজী হন। ছবির প্রিমিয়ার শোতে সত্যজিৎ বলেন – এ ছবি করতে গিয়ে তাঁকে তিনটি ফিচার ছবির খাটনি খাটতে হয়েছে।
সকলেই ভেবেছিলেন এ ছবিতে প্রচুর গান এবং কবিতার আবৃত্তি থাকবে। অনেক সাক্ষাৎকার থাকবে এমন সব মানুষের যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে ব্যাক্তিগত ভাবে চিনতেন (তখন অনেকেই বেঁচে ছিলেন)। শান্তিনিকেতনের কথা থাকবে অনেকখানি। থাকবে নোবেল প্রাইজ নিয়ে অনেক কথা। কিন্তু এই সব তথ্যচিত্রের নির্মানের প্রথাগত ভাবধারা থেকে তিনি বেরিয়ে এলেন। তিনি চেনাতে চাইলেন এক বিশ্বমানব রবীন্দ্রনাথকে , এক দেশপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথকে।
৫২ মিনিটের ছবিতে কোথাও ভর করেনি কোনো আবেগ। বরং এক অদ্ভুত নির্লিপ্তি আছে গোটা ছবি জুড়ে , যেটা বোধহয় অন্য কোনো বাঙ্গালির পক্ষে আনা সম্ভব ছিল না।
ছবি শুরু হয় রবীন্দ্রনাথের অন্তিমযাত্রার দৃশ্যটি দিয়ে। হাজার হাজার শোকবিহ্বল মানুষের অশ্রুসিক্ত পথ ধরে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ তাঁর পার্থিব শেষযাত্রায়। আর নেপথ্যে সত্যজিৎ রায়ের ব্যারিটোন কন্ঠের ভয়েস ওভারএ শুনতে পাই মাত্র কয়েকটি শব্দের একটি স্টেটমেন্ট , যার মধ্যে বলা হয়ে গেছে একটি অধ্যায় –

On August 7, 1941, in the city of Calcutta, a man died. His mortal remains perished .But he left behind him a heritage which no fire could consume. It was a heritage of words and music and poetry of ideas and of ideals, and it was the power to move us today and the days to come

এই বছরেই তিনি রবীন্দ্রনাথের তিনটি ছোটো গল্প নিয়ে তিনটি ছবি করলেন। রবীন্দ্রনাথের ছোটো গল্পের প্রতি ছিল সত্যজিতের সব চেয়ে বেশি আকর্ষন। তাই প্রথম কাজটা ছোটো গল্প নিয়েই। তিনটি কন্যার গল্প হলেও তিনজন কন্যা সব রকম ভাবে সাদৃশ্যহীন। বয়সে , সামাজিক অবস্থানে , মানসিকতায়। তিনটি গল্পের পটভুমি , মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ , আঙ্গিকে সবই একের থেকে অন্যটা অন্য রকম। রতন , মণিমালিকা আর মৃন্ময়ী যে একই লেখকের কল্পকন্যা সেটা ভাবতেই অবাক লাগে। বোধহয় এমনটাই চেয়েছিলেন তিনি। হয়ত রবীন্দ্রনাথের ভাবনার বৈচিত্র্যকে ধরতে চেয়েছিলেন একটা ফ্রেমে। তবে সাহিত্যের abstract কে চলচ্চিত্রের concrete এ নিয়ে আসতে গেলে চলচ্চিত্রের স্রষ্টাকে সাহিত্যের গল্পকে অনেক সময় পুনর্নিমান করতে হয়ে। যদি খোদার উপর খোদকারি আরেকজন খোদা করতে প্রয়াসী হন , তখন দর্শকসাধারণকে নতুন করে বুঝে নিতে হয় এই interpretation এর তাৎপর্য।
গল্প এবং সিনেমা পাশাপাশি মিলিয়ে দেখলে তিনটি গল্পেই আমরা দেখতে পাই সিনেমায় এমন কিছু দৃশ্য আছে যা রবীন্দ্রনাথের মূল গল্পে নেই বা অন্যরকম ভাবে আছে। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিকে লেখা পোস্টমাস্টার গল্পটি , একটি বাংলাদেশের অজ পাড়াগাঁয়ের পটভুমিতে হলেও তার মধ্যে এক বিশ্বজনীনতা আছে। সিনেমায় সেটা গল্পের মতই অনবদ্য ভাবে প্রকাশ পায়। কিন্তু শেষ দৃশ্যে গল্পের রতনকে আমরা এ রকম ভাবে দেখি ‘ সে সেই পোস্টাপিস গৃহের চারিদিকে অশ্রুজলে ভাসিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে ছিল। বোধ করি তাহার মনে ক্ষীণ আশা জাগিতে ছিল দাদাবাবু যদি ফিরিয়া আসে’। ছবিতে আমরা শেষ দৃশ্যে দেখতে পাই ,পুরোনো পোস্টমাস্টারের ডাকে কান না দিয়ে রতন নুতন পোস্টমাস্টারের জন্যে বালতি করে চানের জল বয়ে নিয়ে আসছে। ছবি শেষ হয় নুতন পোস্টমাস্টারের প্রতি রতনের ভাবলেশহীন সংলাপে – ‘জল এনেছি’।
রতনের এই অভিমানের মনঃস্তত্ব রবীন্দ্রনাথ বর্ণিত শেষ দৃশ্যের সঙ্গে তূলনা করলে কোনটা কতটা বাস্তবচিত তা নিয়ে আমাদের তর্ক হয়ত থামবেনা কোনোদিন।
তবে ছবির এই শেষ দৃশ্যের পরিবর্তন নিয়ে সত্যজিতের নিজের যুক্তি আমরা জেনে নিলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হয়। ‘This shocked me as being sentimental. I could not express that because it was an emotion I don’t feel being a man of twentieth century. So I made the ending of more dry, yet moving in its own way. I made it opposite of what it was.’

মণিহারা গল্পটি মূল জায়গাটি এক নারীর ভয়ঙ্কর অলঙ্কার বাসনা। যা হয়ত ছিল রবীন্দ্রনাথের ভবিষ্যতের consumerismএর প্রতি সতর্কবার্তা। কিন্তু গল্পের আরেকটি দৃষ্টিকোন ছিল এর একটি গা ছম ছম করা ভৌতিক রহস্য। সেই ছম ছম করা পরিবেশটি সৃষ্টি করতে পরিচালক অনবদ্য কিছু detailing দেখিয়েছেন যাতে গল্প এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।

সমাপ্তি গল্পেও আনা হয়েছে কিছু অনবদ্য দৃশ্য , যা দেখলে বোঝা যায় কখনো কখনো চলচ্চিত্রের ভাষা সাহিত্যের ভাষাকে শিল্পসুষমায় ছাপিয়ে যেতে পারে। যেমন এই ছবির দুটি দৃশ্য।
ফুলশয্যার দিনে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে জ্যোৎস্না রাত্রির নির্জন নদীতীরে উচ্ছল মৃন্ময়ীর দোলনায় দোলা , দূরে দেখা যায় চলে যাচ্ছে ডাক হরকরা। সেই সঙ্গে অনবদ্য আবহ সঙ্গীত , যা একান্ত ভাবে সত্যজিৎ ঘরানার। এই দৃশ্যটি রবীন্দ্রনাথের মূলগল্প অনুসারী নয়। পরিচালকের সংযোজিত। তবু কি অনবদ্য এক নান্দনিক সংযোজন।
আর শেষের দিকে মৃন্ময়ীর নারী হয়ে ওঠা বোঝাবার জন্যে একটি ছোট্টো দৃশ্যে দেখানো হয় তার ভীষন প্রিয় কাঠবিড়ালি চরকির মৃত্যু সংবাদ পেয়েও তার নির্বিকার থাকা। এই সংযোজনটিও গল্পে না থাকলেও একেবারে রাবীন্দ্রিক।

এর পর ১৯৬৪ তে সত্যজিৎ বাছলেন রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ গল্পটি। এই গল্পের সঙ্গে, আমরা জানি রবীন্দ্রনাথের একটি একান্ত ব্যাক্তিগত ঘটনার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক আছে। কিন্তু এই গল্প বেছে নেওয়ার কারণ একেবারেই তা নয়। মূল গল্প থেকে অনেক যায়গায় তিনি বিচ্যুত হয়েছেন সিনেমার প্রয়োজনে। ধরা যাক সেই অমলের ভুপতির বাড়িতে প্রবেশের মুহুর্তটি। একটা ঝড়ের prelude। আকাশে ঘন কালো মেঘ ,হাওয়ার সোঁ সো শব্দ। পোষা পাখির খাঁচাটি দুলে ওঠা আর ‘হরে মুরারে’ হাঁক পেড়ে অমলেরর প্রবেশ। এ দৃশ্য মূল গল্পে না থাকলেও প্রতীকী হিসেবে অনবদ্য।
সত্যজিতের নষ্টনীড় একটি ব্যাক্তিগল্প গল্প। নারী চরিত্রের বিচিত্র টানাপোড়েন সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। সত্যজিত মূল গল্পের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই গল্পের আবহে আবহে একটি সময়ের ইতিহাসকে ধরেছেন। প্রসঙ্গ এসেছে রামমোহন রায় , ডিরোজইও ছবি দেখি ভুপতির ঘরে ,ইয়ং বেঙ্গলের কথা বলে অমলকে উৎসাহিত করেছে ভুপতি। উঠে এসেছে বিলেতের নির্বাচনের কথা এবং ‘লিবারাল’ দলের জয় ভুপতির বাড়িতে উদযাপিত হতে দেখি। একদিকে Anglo-Saxon রাজনীতির পটভুমি , অন্যদিকে একটি ব্যাক্তিগত প্রেমের এবং বিশ্বাসের সঙ্কট। এই দুই নিয়ে বোনা হয়েছে এক অনবদ্য মানবিক কারুকার্য।
গল্প থেকে যা কিছু বিচ্যুতি তা যেন রবীন্দ্রনাথের মূল দর্শনের কাছাকাছি আসার জন্যেই।

চারুলতা ছবি করার ২০ বছর পর এবং এই কুড়ি বছরে আরো তেরোটি ফিচার ফিল্ম পরিচালনা করার পর তিনি আবার ফিরলেন রবীন্দ্রনাথে। তাঁর সেই প্রথম করা চিত্রনাট্যে ফিরে এলেন। নিশ্চয় অনেক পরিবর্তন করেছেন সেই প্রথম করা চিত্রনাট্যে। কারণ তিনি নিজেই আবিস্কার করেছিলেন ওর মধ্যে ছিল অনেক ‘শোচনীয় রকম হলিউডি ব্যাপার’ ছিল। এবার সেগুলিকে বর্জন করেছিলেন আমরা ধরে নিতেই পারি। এখানেও তিনি মুল উপন্যাসের কিছু কিছু বদল করেছেন। যেমন ঘরে বাইরে উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে নিখিলেশের মৃত্যু দেখানো হয়নি। আমরা জানতে পারি তিনি অসুস্থ , মাথায় ভীষণ চোট ,অবস্থা সম্বন্ধে কিছু বলা যায় না। কিন্তু সিনেমায় নিখিলেশের মৃত্যু দেখিয়েছেন সত্যজিৎ রায়। রবীন্দ্রনাথ যেখানে গল্পকে open-ended ভাবে শেষ করেন সেখানে সত্যজিৎ একটি পরিসমাপ্তি দিতে চেয়েছেন। সেটা কি এই জন্যে যে তাঁর নিজের মুল্যবোধের জায়গা থেকে অবিশ্বস্ততাকে এখানেও তিনি ক্ষমা করেন নি , যেমন ক্ষমা করেন নি চারুলতার অবিশ্বস্ততা ? এ প্রশ্ন নিয়ে তর্ক হয়ত চলতেই থাকবে।

বাঙ্গালির অসীম সৌভাগ্য এমন দুই বিশ্বমানবকে তারা পেয়েছে যারা তাদের অধিকাংশ কাজ করেছেন বাংলা ভাষায় এবং যাঁদের সৃষ্টির অধিকাংশই এই বাংলার পটভুমিকায়। দুজনেরি জন্ম বৈশাখ মাসে। রায় এবং ঠাকুর দুই পরিবারই বাংলার নবজাগরণ পর্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে। দুই পরিবারেই অনেক প্রতিভা , যাঁরা বাংলা সংস্কৃতিতে অতূলনীয় অবদান রেখেছেন। দুই পরিবারই ব্রাহ্ম। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি একনিষ্ঠ থেকেও দুজনেই তাদের নিজের নিজের শিল্পক্ষেত্রে দুনিয়ার সেরা পুরস্কার পেয়েছেন। দুজনেই অনবদ্য সংগীতস্রষ্টা ,দুজনেই তাঁদের নিজের মত করে ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য সঙ্গীতের মেলবন্ধনের পথ দেখিয়েছেন। ব্রহ্মাণ্ডব্যাপী এক সংহতির সুরকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন বিশ্বতান , আর তাকেই সত্যজিৎ বলেছেন cosmic design।
কিন্তু দুজনের সৃষ্টিতেই এই বঙ্গভুমির মাটি, জ্‌ল , গাছপালা , পশুপাখী , ফুলপাতার সান্নিধ্য ফিরে ফিরে এসেছে ,ফিরে এসেছে একটি ধানের উপর একটি শিশির বিন্দুর মত দেশজ দৃশ্যপটের মহিমান্বিত রূপ।

 


লেখক পরিচিতি :চাকুরী জীবন বেসরকারি এবং আধা সরকারি কর্পোরেট জগতের বিভিন্ন পদে। এখন অবসরপ্রাপ্ত। লেখেন নেহাতই মনের খিদে মেটাতে। লেখেন নানান বিষয় নিয়ে। তবে যাই লেখেন বিষয় নির্বাচনে কিছু অভিনবত্ব থাকে। গান , চলচ্চিত্র, ভ্রমণ, দিন বদলের ছবি, বাঙ্গালিয়ানা এ রকম আরও অনেক বিষয় এবং অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ। তথ্যকে কৌতুকের মোড়কে এবং ভাবনা কে স্বচ্ছতার আবরণে পরিবেশন করতে চেষ্টা করেন। বিষয় যাই হোক ভাষা সব সময়েই ঝরঝরে, রসস্নিগ্ধ এবং মনোগ্রাহী। বেশ কয়েকটি ওয়েব পত্রিকাতে লেখেন। দেশ বিদেশে অনেক গুণগ্রাহী পাঠক আছেন।                      

 

(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.